আমাদের সংগঠন বি-স্ক্যান

বদলে যাচ্ছে সবকিছু, প্রযুক্তির বিকাশে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। দিনে দিনে হয়ে উঠছি আধুনিক। তারপরেও সত্যি কী সব কিছু বদলে যাচ্ছে?

আমরা যদি বাংলাদেশের একজন প্রতিবন্ধীর দৃষ্টিকোন থেকে চিন্তা করি, তাহলে দেখবো, আসলে তাদের জগতের তেমন কিছুই বদলাচ্ছে না। আজও প্রতিবন্ধী মানুষেরা ঘরে-বাইরে সবকিছু থেকে বঞ্চিত। আজও তারা সমাজে সম্মানের সাথে গ্রহণযোগ্য নয়।

উন্নত বিশ্বে প্রতিবন্ধীরা যখন একজন অপ্রতিবন্ধীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভোগ করছে সমান সুযোগ-সুবিধা, তখন কঠিন বাস্তবতা এই যে, আমরা এদেশে লড়াই করছি, প্রতিবন্ধীদের অস্তিত্তকে প্রমান করতে। সর্বত্রই তারা বৈষম্যের শিকার। পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্র -- কারোরই যেন সময় নেই তাদের কথা ভাবার।

অন্তর্জালের কল্যাণে ফেসবুক এখন একটি জনপ্রিয় নাম। বন্ধুত্ব গড়ে তোলা, পারস্পরিক ভাব বিনিময়, তথ্য-মতামত আদান-প্রদান, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের প্রচার, এমন কি বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের জন্য ক্রমেই বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা। বিভিন্ন ভাষায় বিশ্বের ১৮০ টি দেশের ৩৫ কোটিরও বেশী মানুষ নিয়মিত ফেসবুকে সক্রিয় রয়েছেন। আর প্রতিদিনই বাড়ছে এর সদস্য সংখ্যা।

ফেসবুক এখন মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাওয়ার একটি সহজ মাধ্যম। সব ধরণের, সব বয়সের মানুষ কম্পিউটারে তো বটেই, মোবাইল ফোনের বোতাম টিপে খুব সহজেই যে কেউ ফেসবুক ব্যবহার করতে পারেন।

জননন্দিত তারকারাও এখন ফেসবুককে ব্যবহার করছেন সরাসরি দর্শক মতামত জরিপের মাধ্যম হিসাবে। এখানে ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, অভিনেতা, শিল্পী, বড় বড় এনজিও, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাও আছেন। অনেক রকম মত প্রকাশের পাশাপাশি এখানে গড়ে তোলা যায় নিজস্ব মতবাদের গোষ্ঠি বা গ্রুপ।

ঘরের বসেই সারা বিশ্বে যোগাযোগের এমন অভিনব জনপ্রিয় পন্থা আগে দেখা মেলেনি। আর বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে ঘরের বাইরে যাদের যাবার উপায় নেই, তাদের জন্য এ যেন এক স্বপ্নলোকের চাবি। চার দেয়ালের মাঝে বসেই পরিচয় করা সম্ভব শত শত মানুষের সাথে, দেশে ও বিদেশে। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এমন অনেক নতুন নতুন বন্ধু গড়ে তোলেন, সারাজীবনেও হয়তো যাদের সাথে কথা বলার সুযোগই হতো না।

আসুন, আমরা বাংলাদেশের এমনই একটি ব্যাতিক্রমী ফেসবুক-গ্রুপের কথা শুনি, যারা প্রতিবন্ধীদের মৌলিক মানবিক অধিকার আদায়ে জনসচতনতা গড়ে তোলার একটি প্রাথমিক পন্থা হিসাবে অন্তর্জালকে বেছে নিয়েছে।

প্রতিবন্ধীদের স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠন ফেসবুকে বি-স্ক্যান (Bangladeshi Systems Change Advocacy Network, B-SCAN) নামে একটি গ্রুপ খোলার মাধ্যমে সংগঠনের যাত্রা শুরু করে। এরই মধ্যে গ্রুপটি অনেকের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। ২০০৯ সালের ১৭ জুলাই এই গ্রুপটি খোলার পর এর সদস্য সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় সাড়ে তিন হাজারে।

প্রতিবন্ধীদের মর্যাদাবান মানুষ হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা পেতে তাদের মাঝে আত্নবিশ্বাস গড়ে তোলার একটি সূচনা পর্ব গ্রুপটি করে চলেছে। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সমমনারা সহজেই একত্রিত হতে পারেন, সংগঠনের নানা প্রায়গিক কর্মসূচিতেও যোগ দিতে পারেন।

বি-স্ক্যান'র মুল স্লোগান 'সর্বত্র প্রবেশের সুবিধা চাই' এর শ্লোগানটির ব্যাপকতা হচ্ছে, সংস্থাটি চায় -- প্রতিবন্ধীদের যেনো শিক্ষা, চাকরি, যাতায়াত, বাসস্থান, বিনোদন ইত্যাদি সর্ব ক্ষেত্রে সহজগম্যতা তথা অধিকার অর্জিত হয় আর এ জন্য বাংলাদেশে যেনো গড়ে ওঠে একটি মানবিক সমাজ ব্যবস্থা, যেখানে একজন প্রতিবন্ধী যেনো নিজেকে সাবলম্বী হিসাবে গড়ে তুলতে পারেন

বি-স্ক্যান এ-ও মনে করে, শুধু ফেসবুক বা অন্তর্জালে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেই ওই রকম সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখা সম্ভব নয় কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষই তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধা বঞ্চিত এর পরেও দেশের সচেতন শিক্ষিত সমাজের একটা অংশ এখানেই আছেন তাদের চেতনাটিকেও জাগ্রত করা প্রয়োজন; তাই অন্তর্জালের উদ্যোগটিকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই সংস্থাটির প্রথম পদক্ষেপ -- প্রতিবন্ধীদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন করা

বি-স্ক্যান আহ্বান জানায়, আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাধ্যমত প্রতিবন্ধীদের পাশে এসে দাঁড়াই। তাদের প্রতি বাড়িয়ে দেই সহমর্মিতার হাত।

আমাদের লক্ষ্য

'বি-স্ক্যান' একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর মূল লক্ষ্য প্রতিবন্ধীদের মৌলিক মানবিক অধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং একই সঙ্গে প্রতিবন্ধীদেরও এই অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ ভাগ, অর্থাৎ প্রায় দেড় কোটি মানুষ নানাভাবে প্রতিবন্ধকতার শিকার; ১৯৮৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) এই জরীপের পর অবশ্য কোনো জরীপ হয়নি। বিভিন্ন দেশে এই সংখ্যা কিছু কম বা বেশি। এদেশে অবহেলিত এই মানুষগুলোর শতকরা ৮০ ভাগই বাস করে দারিদ্রসীমার নীচে। আর এ কারণেই তাদের অধিকারগুলো রক্ষার বিষয়ে তেমন জোরালো কোনো ভূমিকা নেই।

কারা এই প্রতিবন্ধী?

জন্মগত বা মানসিক বা অসুস্থতার কারণে দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে শারীরিক বা মানসিকভাবে যারা বাধাগ্রস্থ হয় বা একেবারেই পারে না, তারাই প্রতিবন্ধী।

অবশ্য প্রতিবন্ধকতার অনেক রকম সঙ্গা রয়েছে; প্রতিবন্ধকতার ভিন্নতাও অনেক।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও তাদের মৌলিক অধিকার পূরণে সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা উচিত বলে আমরা মনে করি।

আমাদের লক্ষ্য, এদেশে সব প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য আগামী এক দশকে গণজাগরণ সৃষ্টি করে প্রতিবন্ধীদের জন্য মানবিক সমাজ গঠনে কার্যকর উদ্যোগী ভূমিকা রাখা। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যেসব পরিবর্তন প্রয়োজন, সেদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

আমরা যা দেখতে চাইঃ

প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য একটি সুন্দর মানবিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠুক।

আমরা যা করতে চাইঃ

প্রধানত তিনটি কাজের মাধ্যমে সকল প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করতে চাই।

সচেতনতা সৃষ্টি,

অধিকার সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা গড়ে তোলা

এবং

প্রতিবন্ধী মানুষের স্বার্থ রক্ষা

যেভাবে করতে চাইঃ

মূলত: চারটি বিষয় প্রতিবন্ধী মানুষের সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছি।

শিক্ষা,
কর্মসংস্থান,
সহায়ক যাতায়াত,
এবং
সর্বত্র প্রবেশের সুবিধা

প্রতিবন্ধিতা কি আমাদের অভিশাপ


আমার মা সব কিছুতেই একটু বেশি বেশি দুশ্চিন্তা করেন নিজে অস্থির হয়ে পড়েন এবং ক্রমশ সেই অস্থিরতাকে অতি দক্ষতার সাথে আশেপাশে অন্যান্যদের মাঝে সংকক্রমিত করেন তার বড় মেয়ে হওয়ার দরুন এই দু’টো গুণ আমার মধ্যে চমৎকার ভাবে গেড়ে বসেছে খুব ছোটখাট সমস্যাতেও অতি মাত্রায় অস্থির হয়ে পড়ি আমি

ইদানিং আমার অতি আদরের একমাত্র ছোট্ট বোন তাসনিন সুলতানা নীলাকে নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি
বেশ ক’দিন ধরে কোন কাজেই ভালো করে মন বসাতে পারছি না শরীর-মন কোনটাই ভালো নেই অবশ্যি এবারের সমস্যটি এতো ছোটখাটও নয় নীলা এবার সপ্তমশ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উঠতে যাচ্ছে এবং অষ্টম শ্রেণীকক্ষটি পড়েছে স্কুল ভবনের দোতলায় অভিভাবকগণের জন্যে এটি কোনভাবেই সমস্যা হতে পারে না! কিন্তু ওর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বাবা মাকে বিশেষভাবে ভাবায় সব কিছুতেই আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতোই এটিতেও নেই কোন র‌্যাম্প অথবা লিফটের সুব্যবস্থা

গতবছরের শুরুতে এরচে’ বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছিলো ওকে নিয়ে
কোন স্কুল কতৃপক্ষই ওকে ভর্তি করাতে রাজী হচ্ছিলেন না কেউ কেউ পরামর্শ দিচ্ছিলেন ওকে বিশেষ স্কুলে ভর্তি করানোর জন্যে নীলা শুধু মাত্র স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারে না কিন্তু ওর চিন্তাশক্তি আর দশজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই সচল পরীক্ষায় প্রথম হতে না পারলেও বরাবরই ভালো রেজাল্ট করেছে, সবসময়ে প্রথম ছ’-সাতজনের মধ্যে থেকেছে এইটুকুন বয়সেই এত ভালো ইংলিশ রপ্ত করেছে আমি নিজেই মাঝে মাঝে অবাক হয়ে উঠি জেনে বুঝে কেউ বিশেষ করে তিনি যদি হয়ে থাকেন একজন ’মানুষ গড়ার কারিগর’ এমন কথা কিভাবে উচ্চারিত হতে পারে তার কন্ঠে আমি আজ অব্দি বুঝে উঠতে পারলাম না!


বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে ’চট্টগ্রাম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ’টির হালিশহরে অবস্থিত শাখার মহানুভব উপাধ্যক্ষ নীলাকে ভর্তি করাতে সম্মতি জানান
সপ্তম শ্রেণীকক্ষটি ছিলো দ্বোতলায় নীলার জন্যে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠা কষ্টসাধ্য শুনে তিনি নিচতলায় বাথরুম সংলগ্ন একটি কেক্ষ নামিয়ে আনেন সপ্তম শ্রেণীকটি শুধুমাত্র নীলার সুবিধার্তে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন শিক্ষক-শিক্ষীকাসহ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্মচারিগন

বছরশেষে আবারো আমার মায়ের চিন্তা- অষ্টম শ্রেণীকক্ষটি দ্বোতলায়, ”কতৃপক্ষ কি একজন ছাত্রীর জন্যে প্রতি বছর বিশেষ ছাড় দেবে!?” বার্ষিক পরীক্ষা শেষে উপাধ্যক্ষ মহোদয়ের কাছে মা জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রতি বছর বাচ্চারা একি ক্লাসরুমে পড়তে চায় না
আতঙ্কে আমি ভীষণ অস্থির হয়ে পড়ি কারণ মায়ের চিন্তা স্কুলকতৃপক্ষ যদি শ্রেণীকক্ষ নিচতলায় নামিয়ে না আনেন নীলাকে ঘরেই শিক্ষক রেখে পড়াবেন আর স্কুলের চাপ থেকে দূরে সরে গিয়ে ঘরে পড়ালোখার ভবিষ্যৎ কি হতে পারে তা আমারচে’ ভালো কে জানে!

”মাসকুলার ডিসট্রফি” নামক অসুখটি যখন ছোট্ট নীলার শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ে তখন থেকেই আমি সবসময়ে একটা আতঙ্কের মাঝে থাকি
। প্রতিমুহুর্তে মনে হতে থাকে এই বুঝি আমার জীবনের নিকষ কালো ছায়া ওর ওপরে এসে পড়লো....এই সব ছোটখাট সমস্যার কারণে আমার পড়ালেখাও সেই ছোট্টবেলায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো নীলাকেও যেনো একি পথের পথিক হতে না হয় ওকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন আছে.... সবার মতোই পড়ালেখা শেষ করে নিজের পায়ের নিচে শক্তভিত্তি তৈরি করবে আমি যা করতে পারিনি ও তা করে দেখাবে!

গত একমাস চরম দুশ্চিন্তায় কাটানোর পর অবশেষে উপাধ্যক্ষ মহদোয় রাজী হন শ্রেণীকক্ষ নিচতলায় নামিয়ে আনতে
অষ্টম শ্রেণীতে নীলাকে ভর্তি করানোর পর এখন একটু শান্তি কিন্তু এভাবেও আর কতদিন! এই স্কুলে যতদিন আছে ততদিন হয়তো নিশ্চিন্ত তারপর? অন্য কোথাও ওকে ভর্তি করানো যাবে তো!
যতদিন যাবে ওর শরীরের অবস্থা আরো খারাপ হবে
এখনো ও নিজে হাঁটতে পারছে আর ক’দিন বাদে সেটাও সম্ভব হবে না, তখন? কোলে করে সবার সামনে দিয়ে ওকে আনা নেওয়ার সময়ে মানুষের তির্যক চাউনি এবং সেই সাথে কটু মন্তব্য যে কতটা ভয়াবহ যন্ত্রণাদায়ক! সাধারণ মানুষ যদি এর মর্ম কিছুটা বুঝতো! এই অবস্থার কি কোন পরিবর্তন নেই?

প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প হলেও কিছু বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে প্রতিবন্ধি শিশুদের জন্যে আর তা হলো অন্ধ প্রতিবন্ধি শিশুদের জন্যে ব্রেইল পদ্ধতির বিশেষ ব্যবস্থা, বাক্ ও শ্রবণ প্রতিবন্ধি শিশুদের জন্যে ইশারাভাষা পদ্ধতি এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধি শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে কিংবা তাদের বেড়ে উঠার স্বাভাবিক পরিবেশ গড়ে তোলার ল্েক্ষয রয়েছে বেশ কিছু বিশেষ বিদ্যা নিকেতন
কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধি শিশুরা না পারে বিশেষ স্কুলে যেতে না পায় স্বাভাবিক স্কুলে যাওয়ার যথাযথ পরিবেশ আমাদের দেশের মানুষের মাঝে একটা ধারনা বদ্ধমূল প্রতিবন্ধি শিশুরা বিশেষ স্কুল ছাড়া স্বাভাভিক স্কুলে অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে পড়তে পারবে না এই ধারনাটি একেবারেই ভুল শারীরিক প্রতিবন্ধি শিশুদের শুধুমাত্র সর্বোচ্চ প্রবেশের সুবিধেটুকু প্রয়োজন হয় আলাদা শিক্ষাব্যবস্থা নয় লিফটের সুব্যবস্থা না থাকলেও শারীরিক প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্বল্প খরচে র‌্যাম্প বা ঢালু পথ এবং বাথরুম সংলগ্ন একটি শ্রেণীকক্ষ যদি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তৈরি করা যায় হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্যে অতি সহজেই প্রবেশগম্যতা তৈরি হয় আমার জানা মতে সরকারি কিছু সংখ্যাক স্কুল এবং ঢাকায় দু’একটি বেসরকারি স্কুলে ছাড়া কোথাও র‌্যাম্প নেই আমাদের দেশে শুধুমাত্র স্বাভাবিক প্রবেশগম্যতা নেই বলে শারীরিক প্রতিবন্ধি শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বঞ্চিত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন যাপনের আনন্দ থেকে

তবুও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তো এগিয়ে এলো আমাদের দুঃশ্চিন্তামুক্ত করতে!

আমাদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ’বি-স্কেন’এর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞচিত্তে ধন্যবাদ জানাই স্কুল কর্তৃপক্ষসহ প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত সকলকে
একবুক আশা নিয়ে প্রত্যাশা করি দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে নীলার মতো হাজারো শিশুর জন্যে শিক্ষার পরিবেশ উন্মুক্ত করবে

লেখকঃ সাবরিনা সুলতানা, ২৮ ডিসেম্বর, ২০০৯।
sabrina@b-scan.org

আমরা তোমাদেরই একজন

বেশ কিছুদিন আগে এক সন্ধ্যায় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে দেখতে গিয়েছিলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের আয়োজনে এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক উৎসব। সারাদিনের বৈরী আবহাওয়ায় অনিশ্চিয়তার মাঝে দোদুল্যমান থেকে অবশেষে সেখানে পৌঁছুতে পেরে ভীষণ ভাল লাগছিল। এদেশের একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী হওয়ার অভিশাপে জীবনের সিংহভাগ চলে গেছে চারদেয়ালের মাঝে বন্দী থেকে। তাই এই প্রথম সামনা-সামনি কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখার উত্তেজনা একটু বেশীই ছিল।


শুরুতেই বক্তব্য রাখলেন বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার নেতারা। শুনতে ভালই লাগলো তাদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতার আলোয় অলংকৃত কিছু কথা,বক্তব্য। মন্ত্রীমহদয়ের বক্তব্যটি অবশ্য শুনতে হল অনুষ্ঠানের মাঝে,কারণ উনার সংসদ শেষ করে এসে পৌঁছতে একটু দেরী হয়ে গিয়েছিল। অনেক শিশুই দেখলাম আয়োজনে, যাদের দেখলেই বুকের ভিতরটি হু হু করে উঠে। এ যেন এক অন্য জগৎ,তাদের কেউ হয়তো দেখেনি এই পৃথিবীর স্বাভাবিক রূপ-রস- আলো। আবার কেউ হয়তো এক সময় অন্য আরো দশটি শিশুর মতোই স্বাভাবিকভাবে জন্মেছিলো, বেড়ে উঠছিলো; কিন্তু কোন দূ্র্ঘটনা বা অসুস্থতা কেড়ে নিয়েছে তাদের দু’চোখের আলো বা করে দিয়েছে তাদের চলৎ শক্তিহীন। আর একদল যাদের কলকালিতে মুখর হবার কথা চারিদিক অথচ তারা কথা বলছে ইশারা ভাষায়,কারণ তারা কথা বলতে পারে না, শুনতে পারে না নিজের গাওয়া গানটিও বা জানে না যেই ছন্দে তারা নেচে যাচ্ছিল সেটিই বা কোন সুর মূর্ছনায় ঝংকিত হচ্ছে? বুদ্ধী প্রতিবন্ধী বা অটিস্টিক শিশুগুলো কি ওদের জগত থেকে বেড়িয়ে আসতে পারছিল? যেই ফুটফুটে শিশুগুলো বসে ছিল হুইলচেয়ারে, কেমন লাগছিলো ওদের, যখন ওদেরই সমবয়সী কিছু শিশু ছুটে বেড়াচ্ছিল মিলনায়তন জুড়ে? আরও অনেক ধরণের প্রতিবন্ধী শিশু সেখানে ছিল যাদের বর্ণনা দেবার ভাষা আমার ঠিক জানা নেই।

এই দেশে প্রতিবন্ধী মানুষের ঘরের বাইরে একা একা চলাফেরা করা দুঃসাধ্য। বিশেষ করে যারা শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ, কোথাও বেরুলে বা কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে প্রথমেই বিপত্তি ঘটে হুইলচেয়ারের জন্য ঢালু যে চলার পথ থাকা প্রয়োজন, সেটি নিয়ে। একেকটি সিঁড়ির ধাপ পেরিয়ে হুইল চেয়ার সমেত একা বা কোনো সাহায্যকারী নিয়ে অনুষ্ঠানে যাওয়া ঠিক কতটুকু কষ্টসাধ্য তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা অনেকটাই দু:সাধ্য। তো গত মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর পাবলিক লাইব্রেরির ওই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিলো ন্যাশনাল ফোরাম অব অর্গনাইজেশেনস ওয়ার্কিং উইথ দ্য ডিসএবেল্ড (এন,এফ,ও,ডব্লিউ,ডি) নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। 'শিশু শিক্ষা সপ্তাহ' উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক শিশু মিলনমেলা। উদ্দেশ্য যদিও ছিল প্রতিবন্ধী শিশুদের সাথে যারা প্রতিবন্ধী নয়, এমন শিশুদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া, কিন্তু নিজেদের মাঝে ভাব বিনিময়ের কোন সুযোগ এই শিশুদের ঘটে নি, আশা করছি ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই হবে, আর তাহলেই এই অনুষ্ঠানগুলো আরও বেশী সাথর্ক হয়ে উঠবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ এসেছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশী সিস্টেমস চেঞ্জ এডভোকেসি নেটওয়ার্ক (বি-স্ক্যান) গোষ্ঠীর সকল সদস্যসহ আমিও আমন্ত্রিত ছিলাম সেখানে। একটু আগে প্রতিবন্ধীদের সহজেই চলাফেরার যে বাধা-বিপত্তিটুকুর কথা বলছিলাম, সম্ভবত এ কারণেই ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতদের মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা ছিলো তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কারণ আমি দেখেছি মিলনায়তন পর্যন্ত পৌঁছুতে কিছু দূর পর পর দু’টি/তিনটি করে সিঁড়ি পাড় হতে হয়েছে,কিন্তু নেই কোন ঢালু পথ বা র‌্যাম্প (Ramp)। তাই আমারও লেগেছে তিন/চারজন সাহায্যকারী। ধন্যবাদ জানাই যারা আমায় সাহায্য করেছেন সেই সিঁড়িগুলো পার হতে। জানতে পারলাম, লাইব্রেরী কর্তৃপক্ষ এই বছরের শেষে সেখানে র‍্যাম্প তৈরীর সিদ্ধান্ত ( বর্তমানে সেখানে র‍্যাম্প তৈরী হয়ে গেছে) নিয়েছেন। যদি সত্যিই তারা সেটা করেন তাহলে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের দেখে নিশ্চয়ই উৎসাহিত হবেন এই কাজে।

যাই হোক, উপভোগ করলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবেশিত নাচ,গান,কিছু বক্তব্যধর্মী নাট্যাংশ। একটি নাট্যাংশ আমার বিশেষ ভাল লেগেছে, যাতে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবন্ধী শিশুদের স্কুলে যাওয়ার ব্যপারটি। যেমন একই স্কুলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সাথে পড়তে গেলে শিক্ষকদের কি ধরণের প্রশিক্ষন থাকা প্রয়োজন এবং কি ধরণের সরঞ্জাম থাকা দরকার। আরও কিছু ব্যপারও এখানে তুলে আনা হয়েছে সুন্দরভাবে, যেমন সহপাঠীদের কেউ কেউ তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে, আবার কেউ কেউ তাদের বন্ধুও হচ্ছে। অনেক শিক্ষক তাদের পড়াতে বিরক্তবোধ করছেন, আবার অনেক শিক্ষক এক একজন প্রতিবন্ধীকে সাহায্য করার জন্য সহপাঠী ঠিক করে দিচ্ছেন। যে কথাটি আমাকে নতুনভাবে ভাবিয়েছে,তাহলো একজন প্রতিবন্ধী শিশুর সাথে কি করে একজন সাধারন ছাত্রের বন্ধুত্ত গড়ে উঠতে পারে। নাটকটির এক পর্যায়ে একজন ছাত্র বলে উঠে, ‘’ওরাতো (প্রতিবন্ধীরা) আলাদা স্কুলে পড়তে গেলেই পারে’’। তখন একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু চিৎকার করে উঠে, “না না আমরা আলাদা স্কুলে পড়তে চাই না। আমাদের আলাদা করে দিও না। আমরা তোমাদের সাথে পড়তে চাই।'' তখন আমি সত্যি চোখের পানি ধরে রাখতে পারি নি। এ যেন আমাদেরই চাঁপা কান্নার বর্হির প্রকাশ। আমরা তো আসলেও আলাদা হতে চাই না। আমরা যে তোমাদেরই একজন।

- সালমা মাহবুব
১১ ডিসেম্বর ২০০৯, জনকন্ঠ।

জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছু গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয়


গত ১৭ই অক্টোবার জাতীয় শিক্ষানীতি ২০০৯ খসড়া প্রতিবেদনের উপর প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলো তে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল ‘’প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা নিয়ে ভাবনা’’। যাতে খসড়া নীতিমালায় কিছু পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। ধন্যবাদ দীবা হোসেন ও শাহরিয়ার হায়দার কে। আমি সকলের সুবিধার্থে নিবন্ধের মুল কথাগুলো তুলে ধরলাম।

বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীদের মূলত দুইভাগে ভাগ করা হয়।
১।মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার প্রতিবন্ধী এবং
২।গুরুতর প্রতিবন্ধী

মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার প্রতিবন্ধী (যেমন,শারীরিক প্রতিবন্ধী,দৃষ্টি প্রতিবন্ধী,বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী)রা সাধারন স্কুলেই পড়াশোনা করতে পারবে,যদিও বেশীর ভাগ মানুষই মনে করেন প্রতিবন্ধী মানেই তাদের আলাদা স্কুলে পড়তে হবে। বাংলাদেশের কয়টি স্কুল এই ব্যপারে উদ্যোগ নিচ্ছেন? কয়জন অভিভাবকই বা সচেতন এই ব্যপারে?
একই স্কুলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সংগে প্রতিবন্ধী শিশুদের পড়াশোনা করার জন্য কিছু ব্যবস্থার প্রয়োজন। যেগুলো হল-

ক. প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সমান অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং শিক্ষার জন্য উপযোগী অবকাঠামো উপকরণ ও শিক্ষক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা।

খ.গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা যায়, প্রতিবন্ধী শিশুদের একটি বড় অংশ শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে পারে, যদি সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। ৫+ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এক বছর মেয়াদী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা যেতে পারে, যাতে এই এক বছরে প্রাথমিক অবস্থায় শিশুটির প্রতিবন্ধীতা সনাক্ত করে,চিহ্নিত করা যায়। তবে এই ক্ষেত্রে যথাযথ শিক্ষক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরী।

গ. প্রাথমিক শিক্ষা অংশে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির বয়স ৬+ বাধ্যতামুলক করা হয়েছে । প্রতিবন্ধী শিশুর প্রতিবন্ধীতার মাত্রা অনুযায়ী তাদের বিকাশে বিলম্ব হতে পারে তাই,তাদের ক্ষেত্রে বয়সের ব্যপারটি প্রয়োজনবোধে নমনীয় করা যেতে পারে।

ঘ. প্রতিবেদনে পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু দৃষ্টি ও অন্যান্য প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়ছে, তারা এ পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়তে পারে। দৃষ্টিগত সমস্যার কারণে তারা অনেক প্রশ্নের উত্তর (যেমন জ্যামিতিবিষয়ক প্রশ্ন) করতে পারবে না।তাই নিবন্ধে, পাবলিক পরীক্ষায় কতজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে, এর একটি রেকর্ড বোর্ডের কাছে রাখতে বলা হয়েছে এবং সে সংখ্যা অনুযায়ী বোর্ড প্রশ্নপত্রে ওই নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীর জন্য বিকল্প প্রশ্ন করতে বলা হয়েছে।

ঙ. নীতিমালায় অধ্যায় ১৮-তে রয়েছে—‘বিশেষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শারীরিক শিক্ষা, স্কাউট ও গার্ল গাইড এবং ব্রতচারী’। নিবন্ধে বলা হয়েছে এ অধ্যায়টি সম্পূর্ণ আলাদাভাবে ‘বিশেষ শিক্ষা’ শিরোনামে আসতে হবে। কারণ, বিশেষ শিক্ষা সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী শিক্ষাপদ্ধতি। এটা কখনোই অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে আসতে পারে না। এখানে তারাই অংশ নেবে, যারা গুরুতর প্রতিবন্ধিতার কারণে সাধারণ বিদ্যালয়ে অংশ নিতে পারছে না। এদের শিক্ষাব্যবস্থাটি হবে একই সঙ্গে আধুনিক ও প্রায়োগিক। ফলে স্বতন্ত্র একটি অধ্যায় হিসেবে এটিকে বিবেচনা করাই যুক্তিযুক্ত।

বিশেষ শিক্ষার সঙ্গে একীভূত শিক্ষাকে সমন্বয় করেও ১৮ নম্বর অধ্যায়ের শিরোনাম হতে পারে ‘একীভূত শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষা’।

চ.১৮ অধ্যায়ের আরো একটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে। ওখানে অনেকবার ‘মানসিক সমস্যা’ কথাটি ব্যবহূত হয়েছে। ‘বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা’ ও ‘মানসিক সমস্যা’ কখনোই এক কথা নয়। এ কারণে ‘মানসিক সমস্যা’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা’ ব্যবহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে নিবন্ধে। এ ছাড়া এ অধ্যায়ে ‘সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা চালু’ করার কথা বলা হয়েছে; এর বদলে ‘একীভূত শিক্ষা’ শব্দগুলো ব্যবহার করাই শ্রেয়। ৫ নম্বর কৌশলে ‘বচন ও মানসিক প্রতিবন্ধী’ বলা হয়েছে; এর পরিবর্তে ‘ভাব প্রকাশ বা যোগাযোগ অক্ষমতা ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা’ ব্যবহারের প্রস্তাব করেছেন।

তবে গুরুতর মাত্রার প্রতিবন্ধীদের(যেমন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক) জন্য অবশ্যই বিশেষ স্কুল প্রয়োজন হবে।

জাতীয় শিক্ষা ২০০৯ খসড়া নীতি মালাটি সর্বসাধারণের সুপারিশের জন্য উন্মুক্ত রাখায় সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি,আশা করছি সুচিন্তিত মতামতের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো 

একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীকে সিঁড়ি দিয়ে উঠানো- নামানোর সহজ পদ্ধতি

বাংলাদেশের বেশীর ভাগ জায়গা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য প্রবেশগম্য নয়। লিফটের ব্যবস্থাও নেই সব জায়গায়। প্রায়ই হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীকে সিঁড়ি দিয়ে উপরে তোলার বা নামানোর প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু কিভাবে সহজে হুইলচেয়ারটি ব্যবহারকারীসহ নামানো বা উঠানো যায় তা আমরা জানি না বলে চেয়ার আলাদা এবং মানুষটি কে কোলে করে নামানো বা উঠানো হয়। যা তার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর, আর এই কারণে বেশিরভাগ সময়ই তিনি বাইরে যেতে চান না।নীচের পদ্ধতিতে দুজন মানুষের সাহায্যে কিভাবে হুইলচেয়ারে বসে আছেন, এমন একজনকে সিঁড়ি দিয়ে উপরে তোলা ও নামানো যায়, তা বলা হয়েছে।
সতর্কতা: কখনো একা একজন সাহায্যকারী এভাবে সিঁড়ি দিয়ে হুইলচেয়ার উঠানো বা নামানোর চেষ্টা করবেন না এটি বিপদজনক

দুজনের মধ্যে যিনি একটু বেশী শক্তিশালী তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীর মাথার দিকে থাকবেন। তার দায়িত্ত্বটিই বেশী।

সিঁড়ি দিয়ে উপরে তোলার সময়ঃ

*হুইলচেয়ারটিকে সিঁড়ির বিপরীতে মুখ করে রাখুন (হাতলের দিকটি সিঁড়ির দিকে থাকবে)।
*একজন সাহায্যকারী সিঁড়ির ওপর উঠে হুইলচেয়ারের পিছন দিকের হাতল দুটি ধরুন। পরীক্ষা করে দেখুন, হাতলের ধরার জায়গাটি (গ্রিপ) যেন পিছলে না যায়।

*অন্য সাহায্যকারী হুইলচেয়ারের সামনে থেকে ঠিক সামনের ছোট চাকার উপরের অংশটি দুহাতে ধরবেন। ধরার সময় খেয়াল করতে হবে যেন এমন কোনো অংশ যেন তিনি না ধরেন, যেটি হাত থেকে ছুটে যেতে পারে; যেমন, পাদানি (ফুট রেস্ট), হাত রাখার জায়গা (আর্ম রেস্ট)-- ইত্যাদি। এ অবস্থায় হুইলচেয়ার ওপরে তোলার আগে উভয় সাহায্যকারীকে হাঁটু ভেঙে পিঠটাকে একটু ধনুকের মত পেছনে বাকিয়ে নিতে হবে।

*হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীর মাথার দিকের সাহায্যকারী (যিনি দুহাতে হাতল দুটি ধরেছেন) হুইলচেয়ার থেকে ঠিক এক সিঁড়ি ওপরে এক পা রাখবেন, অন্য পা রাখবেন আর এক ধাপ উপরে।

* যতক্ষন পর্যন্ত দুজন সাহায্যকারী একটি সুবিধাজনক ভারসাম্যমূলক অবস্থায় (ব্যলেন্স পয়েন্টে) না পৌঁছেন, ততক্ষণ তারা একই সঙ্গে চেয়ারটিকে পিছন দিকে হেলিয়ে দেবেন। এ অবস্থায় হুইলচেয়ারের পেছনের বড় চাকা দুটি শুধু মাটিতে থাকবে এবং এভাবে ধরতে সুবিধা হবে।
*এবার চেয়ারটিকে আস্তে করে সামান্য পিছনদিকে হেলিয়ে নিয়ে সিঁড়ির উপরের ধাপে গড়িয়ে দিন; সম্ভব হলে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীও চাকা পিছন দিকে ঘুরিয়ে উপরে উঠতে সাহায্য করতে পারেন।
*প্রতিটি ধাপে উঠার পর সাহায্যকারীরা নিজেদের অবস্থান আবার ঠিক করে নেবেন।

*এই পদ্ধতিতে সবগুলো সিঁড়ি পার হওয়ার পর, চেয়ারটি পেছন দিকে হেলিয়ে রাখুন যতক্ষন পর্যন্ত না হুইলচেয়ারের চারটি চাকা মাটিতে ঠিক মত নামানো হয়।
---
সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামানোর সময়ঃ


*হুইলচেয়ারটিকে সামনের দিকে গড়িয়ে সিড়ি দিয়ে নামাতে হবে।
*একজন সাহায্যকারী হুইলচেয়ারের পিছন দিকের হাতল দুটি ধরুন। পরীক্ষা করে দেখুন, হাতলের ধরার জায়গাটি (গ্রিপ) যেন পিছলে না যায়।

*অন্য সাহায্যকারী হুইলচেয়ারের সামনে থেকে ধরবেন, ঠিক সামনের ছোট চাকার ওপরের অংশটি। ধরার সময় খেয়াল করতে হবে যেন এমন কোনো অংশ যেন তিনি না ধরেন, যেটি হাত থেকে ছুটে যেতে পারে; যেমন, পাদানি (ফুট রেস্ট), হাত রাখার জায়গা (আর্ম রেস্ট)-- ইত্যাদি।

*পায়ের দিকের সাহায্যকারী এক পা সিঁড়ির দ্বিতীয় ধাপে, আরেক পা তৃতীয় ধাপে রাখবেন। হাঁটু দুটো অল্প ভাঁজ করতে হবে।
*চেয়ারটি তুলে নামানোর আগে উভয় সাহায্যকারীকে হাঁটু ভেঙে পিঠটাকে একটু ধনুকের মত বাঁকিয়ে নিতে হবে।
*যতক্ষন পর্যন্ত দুজন সাহায্যকারী একটি সুবিধাজনক ভারসাম্যমূলক অবস্থায় (ব্যলেন্স পয়েন্টে) না পৌঁছেন, ততক্ষণ তারা একই সঙ্গে চেয়ারটিকে পিছন দিকে হেলিয়ে দেবেন। এ অবস্থায় হুইলচেয়ারের পেছনের বড় চাকা দুটি শুধু মাটিতে থাকবে এবং এভাবে ধরতে সুবিধা হবে।
*আস্তে চেয়ারটি হেলিয়ে নিয়ে গড়িয়ে সিঁড়ির একটি একটি করে ধাপ নীচে নামিয়ে আনুন।

*প্রতিটি ধাপে নামার পর সাহায্যকারীরা নিজেদের অবস্থান আবার ঠিক করে নেবেন।
*সবগুলো সিঁড়ি পেরিয়ে নীচে নেমে যাবার পর, চেয়ারটি আস্তে করে মেঝেতে রাখুন; যতক্ষন না হুইলচেয়ারের চারটি চাকা মাটিতে ঠিক মত নামানো হয়।

-----

শুধু একজন সাহায্যকারী হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীকে একটু উঁচু ফুটপাথ, চৌকাঠ -- ইত্যাদি সামান্য উঁচু জায়গায় কি করে উঠাবেনঃ

 

*হুইলচেয়ারের সামনের চাকাটি ফুটপাথ/চৌকাঠের উপর তুলে দিন।
*চেয়ারটি পিছন দিকে হেলিয়ে সামনের ছোট চাকা দুটি ফুটপাথ/চৌকাঠের উপর দিয়ে শুন্যে তুলে ফেলুন।
*চেয়ারটি সামনের দিকে ঠেলে পেছনের বড় চাকা দুটি ফুটপাথ/চৌকাঠের সাথে লাগিয়ে দিন।
*আপনার কোমড়ের সাহায্যে চেয়ারটি পেছনদিক থেকে ঠেলে ফুটপাথ/চৌকাঠের ওপর উঠিয়ে দিন।


হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীকে একজন সাহায্যকারী একটু উঁচু ফুটপাথ/চৌকাঠ ইত্যাদি জায়গা থেকে কি করে নামাবেনঃ

*হুইলচেয়ারটিকে পেছনে চাপ দিয়ে সামনের ছোট চাকা দুটি সামান্য শূন্যে তুলে ফেলুন। তারপর চেয়ায়রটি সামনে এগিয়ে নিন, যতক্ষন না সামনের চাকাটি ফুটপাথ/চৌকাঠটি পার হয়ে যায়। সামনের ছোট চাকা দুটি শূন্যেই তোলা থাকবে।
*আপনার কোমড়টি চেয়ারের পিছনদিকে লাগিয়ে দিন। পাশ হয়ে দাঁড়িয়ে এক পা ফুটপাথ/চৌকাঠের নীচে নামিয়ে দিন এবং আপনার শরীরের ভারটি নীচে রাখা পায়ে নিয়ে আসুন। পেছনের বড় চাকাদুটি ফুটপাথ/চৌকাঠের নীচে নামিয়ে আনুন।
*ফুটপাথ/চৌকাঠট পার হওয়ার পর সামনের চাকাটি আস্তে করে মাটিতে নামিয়ে আনুন।


অনুবাদ - সালমা মাহবুব, ২৪ ডিসেম্বর, ২০০৯।


নীচের  লিঙ্কটিতেও ছবি দেখতে পারেন,পরিস্কার ধারণা পাবার জন্য। সকলের বোঝার সুবিধার্থে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে।
http://medicalcenter.osu.edu/PatientEd/Materials/PDFDocs/exer-reh/devices/wheel-chair.pdf

An Exceptional Example

Tasnin Sultana, who has developed a incurable disease called 'Muscular Dystrophy' was studying in a school and also a good student but it was impossible for her to climb the stairs and attend the class on 1st floor.'Chittagong Residential Model School and College' situated in port city Chittagong of Bangladesh has made a appreciable move to establish an education friendly environment for this girl. The Principal in response shifted the entire class seven to the ground floor right before the beginning of the last year.

And now, as Tasnin got promotion to class eight, just for her accessibility, class eight has also been moved to ground floor. We on behalf of B-SCAN welcome this praise-worthy effort of the Principal and the authority of 'Chittagong Residential Model School and College'. This will be obviously a remarkable step to be followed by other educational institutions.


Reblog this post [with Zemanta]

স্টিফেন হকিং ও বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী


অভিনন্দন ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসকে আর সেই সাথে একজন প্রতিবন্ধীকে যিনি বাংলাদেশের ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস মতো ভিনদেশি হিসাবে মেডেল অব ফ্রীডম পেলেন তাঁর কাজের জন্য। হাঁ আমি ব্রিটিশ বংশদ্ভুতো স্টীফেন হকিং এর কথাই বলছি। যিনি কেমব্রিজ বিশবিদ্যালয়ে লুকাসিয়ানা বিভাগে গনিত ও পদার্থবিদ্যার মতো কঠিন বিষয়ে অধ্যাপনা করছেন, যেখানে একসময় কাজ করেছেন স্যার আইজ্যাক নিউটন

স্টিফেন হকিং যে রোগটিতে ভুগছেন তার নাম নিওরো মাসকুলার ডিসট্রফি(Neuro Muscular Distrophy) যা এমিওট্রফিক লেটারেল স্ক্লেরোসিস (Amyotrophic lateral sclerosis)ALS নামে পরিচিত
এইটি একটি দুরারোগ্য ব্যধি এই রোগে আস্তে আস্তে পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। হাত পা নাড়ানো অসাধ্য হয়ে যায়। উনি একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী মানুষ। কিন্তু উনার মস্তিস্ক সম্পুর্ন সচল। এই রোগে সাধারনত মানুষ বেশিদিন বাঁচেনা। উনি এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। ৬৭ বছর বয়সেও উনি অধ্যাপনা এবং গবেষণা করে যাচ্ছেন,সম্প্রতি অবশ্য উনি অবসরের ঘোষনা দিয়েছেন। কসমোলজি (Cosmology) এবং কোয়ান্টাম গ্রেভিটি(Quantam Gravity) উনার গবেষণার বিষয়বস্তু। উনার সবচেয়ে আলোচিত কাজটি হল ব্ল্যাক হোল থিওরি (Blackhole Theory)

ভাবছিলাম বাংলাদেশে জন্মালে কি করুণ পরিনতি হতো এই মানুষটির
সবাই শুধু দেখতো উনি কিছুই করতে পারেন না, কে ভাবতো ঐ অসামান্য ব্রেইনটি সদ্বব্যবহারের কথা, যা দিয়ে উনি আজ বিশ্ব দরবারে সুপরিচিত। কে চিন্তা করতো উনাকে স্কুলে পড়ানোর কথা ? তাঁর বাবা মা কে না জানি কত জায়গায় সামাজিকভাবে অপদস্থ করা হত এমন একটি সন্তানের জন্য। সেই লজ্জায় হয়তো তাকে ঘরের বাইরেই বের করা হতো না কে জানে? বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীদের জীবন বেশীর ভাগেরই এমন

হকিং সাহেব ভাগ্যবান তাই উনার বাংলাদেশে জন্ম হয়নি, হলে এই দেশে উনি কি পারেন তার চাইতে বড় করে দেখা হত উনি কিছুই পারেন না
কোন এক গৃহকোনে হয়তো জড় পদার্থের মত পড়ে থাকতেন, কেউ ভাবতোই না উনিও একজন মানুষ, উনারও অধিকার আছে শিক্ষা,বিনোদন বা কারও ভালবাসা পাবার। উনিও কিছু দিতে পারেন এই সমাজ, এই দেশ, এই পৃথিবীকে। শুধু তাঁর কিছু বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন যেটি তাঁর সরকার বা সমাজ তাঁর জন্য করে দিয়েছেন। যেমন চলাফেরার জন্য একটি ইলেক্ট্রিক হুইলচেয়ার, কথা বলার জন্য ভয়েস সিন্থেসাইজার ইত্যাদি

স্টিফেন হকিং যা দিয়েছেন এই বিশ্বকে তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে তা কি একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ হলেই কি দেয়া সম্ভব ছিল? মোটেই না
তেমনি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ হলেই তার কিছু করার নেই বা দেবার নেই এই সমাজ বা দেশকে এটা ভাবা মোটেই ঠিক নয়। আমরা তো জানি না কার মাঝে কি ক্ষমতা লুকিয়ে আছে? আর তা ছাড়াও একজন প্রতিবন্ধীরও আছে সকল মৌ্লিক মানবিক অধিকার। সেও চায় না অন্যের উপর নির্ভর করে বাচঁতে তাই সবার মত তাদের প্রতিও সরকারের মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করা এবং সকল নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের কাজ। সেই লক্ষ্যে প্রতিবন্ধীদের জন্য চাই একটি সঠিক অবকাঠামো।

- সালমা মাহবুব
৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৯, জনকন্ঠ।

একজন জীবনযোদ্ধা


রুমা যে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটিতে সিনিয়র রিসেপশেনিস্টের কাজ করছে তার পরিবেশটি বড়ই মনোরম। গাছগাছালি ঘেরা সবুজ এক চিত্রপট যেন। পাখিদের কল কাকলিতে মুখর স্নিগ্ধ পরিবেশ। 

হোস্টেল,ক্যান্টিন,বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র,ওয়ার্কশপ,নার্সারি ইত্যাদি নিয়ে বিশাল এক কম্পাউন্ড। খুব সুন্দর একটি পুকুরও রয়েছে যার শাঁনবাধানো ঘাটে বসে অনায়াসে জোঁছনা উপভোগ করা যায়। চারিদিকের দৃশ্য এমনিতেই মানুষের মন ভাল করে দেয়। কিন্তু রুমা এর কিছুই উপভোগ করতে পারে না,সে শুধু অফিস আর রুম,রুম আর অফিস এই চক্রে আবর্তিত।কারণ সে তার নিজের হুইলচেয়ারটি নিজে হাত দিয়ে চালাতে পারে না,চালাতে হয় পা দিয়ে,কিন্তু মসৃণ পথ না হলে তা সম্ভব হয় না। তাই একজন লোক আছে তার যে তাকে সকালে এসে অফিসে দিয়ে যায় আবার সন্ধ্যায় ছুটি হলে রুমে পৌঁছে দিয়ে যায়। ঐ প্রতিষ্ঠানেরই হোস্টেলে একাই থাকে সে। রুমে তার চলাফেরায় তেমন অসুবিধা হয় না। কারন সকল ব্যবস্থাই তার উপযোগী করে করা।

রুমা খুব স্বাধীনচেতা একজন নারী। চাকরি মানেই কারো অধীনে কাজ করা। যা তার মোটেই পছন্দ ছিল না। ইচ্ছে ছিল স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে ঘর সংসার করার পাশাপাশি একটি ছোটখাট ব্যবসা থাকবে তার। কিন্তু হায় বিধাতা! বোধহয় হেসেছিলেন সেদিন। আজ সে মানুষ এমনি অবস্থার স্বীকার যা তাকে প্রতি মূহুর্তে পরাধীনতার কথা মনে করিয়ে দেয়।


ছোটবেলায় তিন বছর বয়সে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিজ(Rheumatoid Arthritis)-এ আক্রান্ত হয় সে। আর্থ্রাইটিজের কারনে ওর পা বাঁকা হয়ে যেত তাই সবসময় ওকে ক্রেপ ব্যান্ডেজ পরে থাকতে হতো। তিন/চার বছর চিকিৎসার পর সম্পূর্ণ ভাল হয়ে উঠে সে এবং ক্লাস থ্রি তে ভর্তি হয়। দিনগুলো তার কেটে যাচ্ছিল মহাসুখে। তিন ভাইয়ের আদরের একমাত্র বোন সে। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি ঘর দোর গুছিয়ে রাখা,ভাইদের সাথে ব্যাডমিন্টেন খেলা,গাছে চড়া,স্কিপিং করা কি না করতো সে। খোলা আকাশে ডানা মেলা পাখিদের উড়ে বেড়ানো দেখতে খুব ভাল লাগতো তার। ডিগ্রী পাসের পর চারিদিক থেকে তখন বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু হয়েছে, জোরে সোরে চলছে পাত্র দেখা । রুমার দুচোখ জুড়ে তখন একটি ছোট্ট সুখের সংসারের স্বপ্ন, একটি সন্তানের আকাংক্ষা। একজন অজানা মানুষের আগমনের অপেক্ষা, যার হাত ধরে শুরু হবে নতুন পথ চলা। কিন্তু গল্পটা সেভাবে এগোয় নি।


একদিন রাতে ও ডাত্তার দেখিয়ে রিকশায় করে বাড়ী ফিরছিল ওর বাবার সাথে, গায়ে ছিল জ্বর। ওরা যখন বাড়ীর কাছে ব্রিজের উপর এসেছে ঠিক তখনই হঠাৎ পিছন থেকে একটি ট্রাক ওদের রিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। রুমা রিকশা থেকে ছিটকে ব্রিজের নিচে পরে যায়। এক বেপরোয়া ট্রাক ড্রাইভারের খামখেয়ানিপনা চুরমার করে দিয়ে যায় আরও একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ। রিকশাচালক আর ওর বাবা অনেক কষ্টে রুমাকে উপড়ে তুলে আনে,রাস্তায় তখন কোন লাইটও ছিল না। সেই সড়ক দূর্ঘটনার কমোড়ের হাড় ভেংগে যায় তার এবং সেটা রিপ্লেইস করতে হয় দূর্ঘটনার তিন বছর পর। সেটাও দূর্ঘটনার কারণে ওর যে ব্যথাটি হচ্ছিল, ডাক্তারদের সঠিক কারণটি সময়মত নির্ণয় করতে না পারার ফল। চলে যেতে হয় ইন্ডিয়া হিপ জয়েন্ট রিপ্লেইস করতে। অনেকদিন চলাফেরা বন্ধ থাকায় ফিরে আসে সেই পুরনো রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিজ। ওর রোগটায় চলাফেরার মাঝে থাকতে হয়, ব্যয়াম করতে হয় কিন্তু আর্টিফিসিয়াল হিপ জয়েন্ট ভেংগে যাবার আশংকায় ফিজিওথেরাপি করা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই ওর শরীরের জয়েন্টগুলো সব শক্ত হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে, ১৯৯৬ থেকে ২০০৯ কম সময় নয়, অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে ওর শরীরের। রুমা এখন আর দাঁড়াতে পারে না। দুই হাঁটুর বাটিগুলো পরিবর্তন করতে হবে। শেষ হয়ে গেছে অন্য হিপ জয়েণ্টও, সেটাও পরিবর্তন করা দরকার। চলাফেরা বা বসা যতটুকু তা নাকি মেরুদন্ড দিয়েই চলছে, কিছুদিন আগের সর্বশেষ ডাক্তারের রিপোর্ট তাই বলছে।

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস নতুন সংসারতো দূরের কথা আজ নিজের বাবা মার কাছে থাকারও কোন উপায় নেই তার। কারন রুমার বাবা তো আর ভাবেন নি যে তার মেয়েটির এই করুণ পরিণতি হবে, তাই বাড়িটি সেইভাবে তৈরী হয়নি, যার কারনে বাড়িতে থাকলে ওর চলাফেরা অনেক কমে যায়। বাথরুম বা পাকের ঘরের দরজাগুলো তৈরী হয়নি কোন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীর কথা মাথায় রেখে, নেই লিফট। দোতলা বাড়ীটির নিচতলায় ভাড়াটিয়ারা থাকতো, কিন্তু রুমার পক্ষে এখন আর দোতলায় উঠা সম্ভব হচ্ছে না বলে নিচতলাতেই তাদের উঠিয়ে দিয়ে, একটি রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে ওর জন্য। বাড়ী গেলে রুমা সেখানেই থাকে। রুমার বাবা মা আজ একটি ভীষণ মনোকষ্টে ভোগেন, ভাবেন তখন যদি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তাঁদের কেউ সচেতন করতেন তাহলে বাড়ী তৈরীর সময় অবশ্যই তিনি দরজাগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিতেন, রাখতেন লিফটের ব্যবস্থাও। তাহলে হয়তো আজ তাঁদের আদরের একমাত্র মেয়েটিকে রাখতেন পারতেন নিজেদের কাছেই। তারপরও রুমা ভাগ্যবতী কারন পরিবারের সবাই তাকে ভীষণ ভালবাসে। তার সব সাফল্যের পিছনেই আছে তার পরিবারের সহযো্‌গী মনোভাব।


আমার দেখা একজন সংগ্রামী নারী,রুমা। নিজের শত প্রতিবন্ধিতা যার মুখের হাসি এতটুকু কেড়ে নিতে পারে নি। যে মেয়েটি সারারাত ব্যথায় ঘুমাতে পারে না সেই মেয়েটিই সকালবেলা রিসেপশেন ডেস্কে কি করে হাসি মুখে কাজ করে আমার ভাবতে ভীষণ অবাক লাগে।


রুমার কষ্টের আমি কোন কুল কিনারা পাই না। একবার ভাবুনতো মানুষ যদি তার হাতটিকে সম্পূর্ণ ভাঁজ করতে না পারে তাহলে খেতে,মাথার চুল আঁচড়তে,জামা কাপড় পড়তে কতটা অসুবিধার সম্মুখিন হবে? তার ঘাড়টি যদি ডানে বাঁয়ে ঘুরানো না যায় তাহলে? তার হাতের আংগুলগুলো যদি শক্ত হয়ে আসে তখন? হাঁটুর জয়েণ্ট যদি আর কাজ না করে কি করে দাঁড়াবে সে? যদি সে আর উপুড় হতে না পারে,তাহলে নিচু হয়ে কিছু করা বা তোলা কতটা কষ্টসাধ্য? এই সবগুলো কাজ করতেই রুমার খুব কষ্ট হয় বা পারে না। হুইলচেয়ারটিই এখন তার একমাত্র সঙ্গী। সেই সাথে আছে প্রচন্ড শারীরিক ব্যথা,তবে ওর সাথে কথা বলার সময় আপনি কিন্তু তা বিন্দু মাত্র বুঝতে পারবেন না।


রুমার গুনেরও কিন্তু শেষ নেই। সে ভাল ছবি আঁকতে পারে, ওর আঁকা ছবি নিয়ে বেশকিছু একজিবিশেনও হয়েছে, তৈরি হয়েছে কালেন্ডার, ভিউকার্ড। সেই রয়াল্টির টাকা রুমা দান করেছে প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে। বিভিন্ন একজিবিশেনে গিয়ে বড় বড় শিল্পীদের ছবি দেখে অনুপ্রেরণা পাবার পথটিও আজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে ওর জন্য কারণ বাংলাদেশে শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সহায়ক যাতায়াত ব্যবস্থা  এখনো গড়ে উঠে নি। ঢাকার অদূরে থাকায় ট্যাক্সিক্যাব এ করে যাওয়াটা বেশ ব্যয়হুল হয়ে যায় তাই সবসময় তা সম্ভব হয়ে উঠে না। তারপরও সে মাঝে মাঝে যায় বেঙ্গল গ্যালারীতে।


ভিডিওগ্রাফির উপর ট্রেইনিং আছে ওর। অনেক ভিডিও চিত্রও তৈরী করেছে সে প্রতিবন্ধীদের সচেতনতার উপর, তার প্রতিষ্ঠানের জন্য, যেগুলো একসময় টিভিতে প্রচারিত হয়েছে। সুচিকর্মেও সুনিপুনা সে। ওর লেখালেখির হাতও খুব ভাল। বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীদের ব্যপারে মানুষকে সচেতন করার জন্য অনেক লেখাই ছাপা হয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। সে প্রায়ই লেখে প্রতিবন্ধীদের প্রতিবন্ধকতার কথা, বিশেষ করে যারা শারীরিক প্রতিবন্ধী,পদে পদে তারা কত বাঁধার সম্মুখিন ঘরে ও বাইরে। আজকাল লিখতে কষ্ট হয় বলে ওর লেখা কমে গেছে অনেক। রুমা প্রবন্ধ ছড়া,গল্পও লেখে।


শত প্রতিবন্ধকতা সত্তেও রুমা খুব চমৎকার রান্না করতে পারে,মজার মজার রান্না করা ওর সখগুলোর অন্যতম। সারাদিনের ক্লান্তির পর অনেকেই যেটাকে ঝামেলা মনে করে সেটাই যেন ওর পরম আনন্দের জায়গা। ও সবসময় দুঃখ করে বলে আমার এতো ভাল লাগে রান্না করতে, অথচ দেখো খাওয়ানোর মানুষ নেই। অথচ একটা সময় ছিল যখন ও এটা ওটা রান্না করে খাওয়াতো বাড়ীর সবাইকে। এখন যে সে একা থাকে, কাছে নেই বাবা মা ভাইদের কেউ, তাই ভাল কিছু রান্না করলেই ওর মনটা অনেক খারাপ হয়ে যায়। বিশেষ করে ঈদের দিনগুলোয় ও যেন কিছুতেই স্বাভাবিক থাকতে পারে না। মনে পরে যায় পুরানো দিনের কথা। যখন মায়ের সাথে তৈরী করতো নানা রকম খাবার, আজ ঈদে বাড়ী গিয়ে শুধু দর্শক হয়ে বসেই থাকতে হয়, কিছুই করা হয় না। তাই ঈদ রুমার জন্য কোন আনন্দের দিন নয়, এ যেন এক শোক দিবস। কিছুতেই যেন দু’চোখের পানি আর বাঁধ মানে না।

- সালমা মাহবুব
৩ অক্টোবর, ২০০৯, জনকন্ঠ।

Interaction with Persons with Disabilities

Etiquette considered appropriate when interacting with people with disabilities is based primarily on respect and courtesy. Outlined below are tips to help you in communicating with persons with disabilities.

Accessible Street Cross for Blind and wheelcha...Image via Wikipedia


General Tips for Communicating with People with Disabilities

* When introduced to a person with a disability, it is appropriate to offer to shake hands. People with limited hand use or who wear an artificial limb can usually shake hands. (Shaking hands with the left hand is an acceptable greeting.)
* If you offer assistance, wait until the offer is accepted. Then listen to or ask for instructions.
* Treat adults as adults. Address people who have disabilities by their first names only when extending the same familiarity to all others.
* Relax. Don't be embarrassed if you happen to use common expressions such as "See you later," or "Did you hear about that?" that seem to relate to a person's disability.
* Don't be afraid to ask questions when you're unsure of what to do.

Tips for Communicating with Individuals Who are Blind or Visually Impaired

* Speak to the individual when you approach him or her.
* State clearly who you are; speak in a normal tone of voice.
* When conversing in a group, remember to identify yourself and the person to whom you are speaking.
* Never touch or distract a service dog without first asking the owner.
* Tell the individual when you are leaving.
* Do not attempt to lead the individual without first asking; allow the person to hold your arm and control her or his own movements.
* Be descriptive when giving directions; verbally give the person information that is visually obvious to individuals who can see. For example, if you are approaching steps, mention how many steps.
* If you are offering a seat, gently place the individual's hand on the back or arm of the chair so that the person can locate the seat.

Tips for Communicating with Individuals Who are Deaf or Hard of Hearing

* Gain the person's attention before starting a conversation (i.e., tap the person gently on the shoulder or arm).
* Look directly at the individual, face the light, speak clearly, in a normal tone of voice, and keep your hands away from your face. Use short, simple sentences. Avoid smoking or chewing gum.
* If the individual uses a sign language interpreter, speak directly to the person, not the interpreter.
* If you telephone an individual who is hard of hearing, let the phone ring longer than usual. Speak clearly and be prepared to repeat the reason for the call and who you are.

Tips for Communicating with Individuals with Mobility Impairments

* If possible, put yourself at the wheelchair user's eye level.
* Do not lean on a wheelchair or any other assistive device.
* Never patronize people who use wheelchairs by patting them on the head or shoulder.
* Do not assume the individual wants to be pushed —ask first.
* Offer assistance if the individual appears to be having difficulty opening a door.
* If you telephone the individual, allow the phone to ring longer than usual to allow extra time for the person to reach the telephone.

Tips for Communicating with Individuals with Speech Impairments

* If you do not understand something the individual says, do not pretend that you do. Ask the individual to repeat what he or she said and then repeat it back.
* Be patient. Take as much time as necessary.
* Try to ask questions which require only short answers or a nod of the head.
* Concentrate on what the individual is saying.
* Do not speak for the individual or attempt to finish her or his sentences.
* If you are having difficulty understanding the individual, consider writing as an alternative means of communicating, but first ask the individual if this is acceptable.

Tips for Communicating with Individuals with Cognitive Disabilities

* If you are in a public area with many distractions, consider moving to a quiet or private location.
* Be prepared to repeat what you say, orally or in writing.
* Offer assistance completing forms or understanding written instructions and provide extra time for decision-making. Wait for the individual to accept the offer of assistance; do not "over-assist" or be patronizing.
* Be patient, flexible and supportive. Take time to understand the individual and make sure the individual understands you.

Remember

* Relax.
* Treat the individual with dignity, respect and courtesy.
* Listen to the individual.
* Offer assistance but do not insist or be offended if your offer is not accepted. 

Source: Online 
Reblog this post [with Zemanta]

Some Positive and Negetive Words

Positive language empowers. When writing or speaking about people with disabilities, it is important to put the person first. Group designations such as "the blind," "the retarded" or "the disabled" are inappropriate because they do not reflect the individuality, equality or dignity of people with disabilities. Further, words like "normal person" imply that the person with a disability isn't normal, whereas "person without a disability" is descriptive but not negative. The accompanying chart shows examples of positive and negative phrases.

Affirmative Phrases

person with an intellectual, cognitive, developmental disability
person who is blind, person who is visually impaired
person with a disability
person who is deaf
person who is hard of hearing
person who has multiple sclerosis
person with cerebral palsy
person with epilepsy, person with
seizure disorder
person who uses a wheelchair
person who has muscular dystrophy
person with a physical disability, physically disabled
unable to speak, uses synthetic speech
person with psychiatric disability
person who is successful, productive


Negative Phrases

retarded; mentally defective
the blind
the disabled; handicapped
the deaf; deaf and dumb
suffers a hearing loss
afflicted by MS
CP victim
epileptic
confined or restricted to a wheelchair
stricken by MD
crippled; lame; deformed
dumb; mute
crazy; nuts
has overcome his/her disability; is courageous (when it implies the person has courage because of having a disability). 

Source: Online 
Reblog this post [with Zemanta]

Some Major Types of Disablities

The World Health Organization defines Disability as follows: "Disabilities is an umbrella term, covering impairments, activity limitations, and participation restrictions. An impairment is a problem in body function or structure; an activity limitation is a difficulty encountered by an individual in executing a task or action; while a participation restriction is a problem experienced by an individual in involvement in life situations. Thus disability is a complex phenomenon, reflecting an interaction between features of a person’s body and features of the society in which he or she lives".


This voter with a manual dexterity disability ...Image via Wikipedia


Below you will find a list of the major types of disabilities;

* Deaf and Hard of Hearing
* Vision Impairments
* Mobility Disabilities
* Psychiatric Disabilities
* Learning Disabilities
* Attention Deficit Disorder
* Systemic Disabilities
* Brain Injuries

* Deaf and Hard of Hearing: Deafness is defined as "a hearing impairment that is so severe that the child is impaired in processing linguistic information through hearing, with or without amplification."

Thus, deafness may be viewed as a condition that prevents an individual from receiving sound in all or most of its forms. In contrast, a child with a hearing loss can generally respond to auditory stimuli, including speech.

Vision Impairments: Total blindness is the inability to tell light from dark, or the total inability to see. Visual impairment or low vision is a severe reduction in vision that can't be corrected with standard glasses or contact lenses and reduces a person's ability to function at certain or all tasks. Legal blindness (which is actually a severe visual impairment) refers to a best-corrected central vision of 20/200 or worse in the better eye or a visual acuity of better than 20/200 but with a visual field no greater than 20° (e.g., side vision that is so reduced that it appears as if the person is looking through a tunnel).

* Mobility Disabilities:Reduced function of legs and feet leads to users depending on a wheelchair or artificial aid to walking. In addition to people who are born with a disability, this group includes a large number of people whose condition is caused by age or accidents.

Mobility disabilities can stem from a wide range of causes and be permanent, intermittent or temporary. Among the most common permanent disorders are musculoskeletal disabilities such as partial or total paralysis, amputation or severe spinal injury, types of arthritis, muscular dystrophy, multiple sclerosis, head injury and cerebral palsy. Additionally, conditions such as respiratory and cardiac diseases may also impair mobility. Any of these conditions may impair the strength, speed, endurance, coordination and dexterity necessary for proper hand function.


* Psychiatric Disabilities/Mental illness: Mental illness is a term that describes a broad range of mental and emotional conditions. Mental illness also refers to one portion of the broader ADA term mental impairment, and is different from other covered mental impairments such as mental retardation, organic brain damage, and learning disabilities. The term ‘psychiatric disability’ is used when mental illness significantly interferes with the performance of major life activities, such as learning, working and communicating, among others.

*Learning Disabilities: Learning disabilities are problems that affect the brain's ability to receive, process, analyze, or store information. These problems can make it difficult for a student to learn as quickly as someone who isn't affected by learning disabilities.

* Attention Deficit Disorder: Attention deficit hyperactivity disorder (ADHD) is one of the most common childhood disorders and can continue through adolescence and adulthood. Symptoms include difficulty staying focused and paying attention, difficulty controlling behavior, and hyperactivity (over-activity).

* Systemic Disabilities: Systemic Disabilities are conditions that affect one of more of the body’s systems including respiratory, immunological, neurological and circulatory. As with the majority of disabilities, each may affect individuals differently: some more severely than others. The following is a brief description of some of the more common types of Systemic Disabilities.

* Brain Injuries: The term HEAD INJURY refers to an injury to the BRAIN which is usually the result of an accident, or sometimes an assault. Often the injury results froma blow to the head such as may be suffered in an automobile accident, a fall or a gunshot wound. The injury may also occur as a result of lack of oxygen (such as in drowning), or as a result of lack of blood supply to the brain (such as following a cardiac arrest). People with multiple injuries (as in serious auto accidents) often suffer brain injury by more than one of these mechanisms. The term HEAD INJURY is preferable to the term BRAIN DAMAGE because the brain has tremendous powers of recovery. Furthermore, shortly after a head injury, it is usually impossible. 


Source: Online
Reblog this post [with Zemanta]

An Open Letter of a Person with Disablity

To,
Our Honourable Prime Minister,

Dear Madam,
Your electoral manifesto included agenda on facilitating the person with disabilities in terms of education, mobility, communication as well as ensuring them a decent social status. I have heard you expressing your compassion and empathy towards the person with disabilities. I believe you will understand our plight and inhibitions and so am writing this letter talking about some of my bitter experiences as a disabled person.

As a child, I was diagnosed with an incurable condition called "Muscular Dystrophy", which left me incapacitated and bound to a chair, unable to walk. I did not get to study a lot. My rapidly deteriorating muscular condition meant I could not walk properly as a child. I would get any odd and unmannerly looks from just about everyone on the streets and in school too. I cut down socializing with others. No going to weddings, family reunions, birthdays or well, anything.

However, in other countries, the infrastructure and policies mean that the person with disabilities can lead a somewhat normal life and not face many of the problems and discrimination we face in this country. For example, Serina Row, the Manager of the Singapore Muscular Dystrophy Association, is also inflicted with the same condition. However, with the aid of an electric wheelchair, she is able to move around, complete her tasks and go about life as if nothing is wrong. 30 year old computer engineer, Harry is in a worst predicament. His parents, knowing that their son will never get better, support him in every decision he makes.

On the other hand, I have been trapped within these four accursed walls, unable to do chores on my own, flicking through channels on the TV as time rushes by. Then something amazing happened. Someone extended their arm towards me. His unconditional and unwavering love showed me a ray of hope, a glimmer of light in the dark horizon.

I wanted to start over, but, again, social barriers stopped me. How can a disabled woman, unable to even walk, supposed 2 start a family? My own father could not come to terms with the fact that his disabled daughter would marry. He went against it. In the end however, we did end up marrying.

After the wedding, whenever we went out, I would get nasty looks from passers by, the social stigma associated with being disabled was still just as real as ever.

After marrying, we went to the Eid market. This was my first time at the Eid market, and well, the staring and pointing seemed to intensify. It was as if I was some sort of circus freak. That was the last time I dared to go out.
In these four years, things have been hard on us. Still, my husband's love for me has not faltered. But love and caring cannot hide the truth of my life:.
I had hoped that I could start over again, that everything would change, everything would be normal, that this living nightmare would end. I thought my life would be better, if not as good as Serina or Harry's, still better nevertheless. I was wrong. When I finally did pluck up the courage to venture beyond these four walls, I found the world to be harsh, cold and cruel. Slowly I came to the realization that, as a disabled, my life would always be very limiting, that in the eyes of the society, as a disabled, I did not have the right to dream. My husband tried to breach this social barrier, but it turned out to be too intricate and immense a task for him alone. Maybe he too is depressed.

Around this time, my younger sister too was diagnosed with the same life crushing condition. I am trying heart and soul to convince my mother to make sure she can continue her education. She agrees, but then also says that my sister can probably only continue till her SSC. By then her condition will have worsened. Carrying her to and from school and all the hassles involved, my mother thinks she could not cope with it.


My sister hates what she has to go through. All the pointing and leering brings her down. All the snide remarks and indifference makes her weep, just as it made me weep all those years ago.

My condition has worsened a lot. I hardly have any energy any more. However I am writing to you in hopes that there will be reforms.

At present, there are about 15 million person with disabilities in Bangladesh, with the number rising by about 250 thousand each year. About the same rate being faced by many countries, both large and small, across the world. Like other countries, ours can and should also provide a decent and viable infrastructure to support us. It is not impossible, there are many countries which have achieved it to quite a high degree.

You are like my mother, so I would like to ask you a few questions.
If I were your daughter, would you keep me hidden away from society?
If my peers can go study and become something in life, why can't we? We are just as capable. We too could study and learn to support ourselves.
I see many adverts on the AIDS campaign. Why can't our influential media be used to educate people about the person with disabilities? To make everyone know that we are just like them, that we are not different. That these conditions can happen to anyone, at any time of their life.

I could go on and on, but due to restrictions, I have to end this letter here. I would love to have personally met you and would like to communicate further.
Hoping our beloved country,Bangladesh, Banga-Bandhu's Shonar Bangla, all wealth, dignity and prosperity and wishing you success in all your endeavors.
Yours sincerely, Sabrina Sultana.
Email: sabrina@b-scan.org

(This letter was published in Bangla in different newspapers.)
Reblog this post [with Zemanta]

Bangladeshi Systems Change Advocacy Network (B-SCAN)

The Dead Corals of The Saint Martin's Island, ...Image via Wikipedia
There are about 15 million disabled people in Bangladesh, with the number rising by about quarter million each year,this survey was done by WHO in 1985. About the same rate being faced by many countries, both large and small, across the world. Like other countries, Bangladesh should also provide a decent and viable infrastructure to support us. It is not impossible, there are many countries which have achieved it to quite a high degree. However, for any reforms to happen, we must first raise awareness of the fact that something needs to be done about this issue. It is my humble request to everyone, please help raise awareness of this issue so that people with disabilities in Bangladesh may lead a life with a higher standard of living. In this connection we have set our VISION, MISSION AND Goals to have a change in the system and the society. These are in outline only and will be elaborated upon further.

VISION

A conducive environment for the overall improvement of life of all People with Disability (PwD) in Bangladesh.

MISSION

Our mission is to ensure an improved life of all PwDs in Bangladesh through the following arrangements:

1. Awareness
2. A Clear Idea about Rights
3. Maintenance of PwDs Interests

GOALS

We intend to achieve following goals:

1. Education
2. Occupation
3. Access to All Facilities
4. Establishment of a Support System

Reblog this post [with Zemanta]

How B-SCAN was born

Our fledgling network of disability advocates, Bangladeshi Systems Change Advocacy Network (B-SCAN) was founded on July 17, 2009 in Facebook. B-SCAN is a loosely woven blanket comprised of a variety individuals around our planet who meet online and in person. All tend to share a few things in common.One is we either have a disability ourselves or know some one with disability. Most members also share the desire to rise above the social constraints hold people with disabilities back from full participation in society. We think without education, job, transportation and universal access it is not possible to bring them to the mainstream of the society. Thats why we are focusing on raising awareness in Bangladesh for people with disabilities and also among people with disabilities about their own rights.


Reblog this post [with Zemanta]

 
Design by Oronno Anam | Bloggerized by Salma Mahbub