দেশে সাড়ে পাঁচ লাখ শিশু রিকেটে আক্রান্ত

দেশে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে সাড়ে পাঁচ লাখ রিকেট রোগে আক্রান্ত। রিকেট বিষয়ে প্রথম জাতীয় জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিকেট বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার ব্র্যাক সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে এ জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন রিকেটস ইন্টারেস্ট গ্রুপের আহ্বায়ক এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র-বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী এস কে রায়। তিনি জানান, দেশের ছয়টি বিভাগের ২০ হাজার শিশুর ওপর ১০ মাস সময় নিয়ে এই জরিপ করা হয়। জরিপে দেখা গেছে, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের দশমিক ৯৯ শতাংশ শিশু রিকেটে আক্রান্ত। এদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। এই শিশুদের ৯৮ শতাংশ ভিটামিন ডি এবং ৪৯ শতাংশ ক্যালসিয়াম ঘাটতিতে ভুগছে। জরিপ অনুযায়ী, ছয়টি বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে রিকেট আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রিকেট আক্রান্তদের ৭৬ শতাংশই এই বিভাগে।
রিকেটস ইন্টারেস্ট গ্রুপের তত্ত্বাবধানে (আইসিডিডিআরবি), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), কেয়ার বাংলাদেশ, জাতীয় পুষ্টি প্রকল্প, সোশ্যাল অ্যাসিসট্যান্স অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফর দ্য ফিজিক্যালি ভালনারেবল (এসএআরপিভি), প্ল্যান বাংলাদেশ এবং ব্র্যাক এ জরিপ করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুর দেহে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেট হয়। এতে শিশুর ওজন কমে, শুকিয়ে যায়, শিশু বয়সের তুলনায় খাটো হয়। অনেক ক্ষেত্রে কবজি ফুলে যায়, কারও পা বেঁকে যায়। কারও বুকের খাঁচার হাড়ে গোটা বের হয় বা কপালের হাড় সামনের দিকে বের হয়ে যায়।

প্রতিকার হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ এবং ছয় মাসের পর যথাযথ পরিপূরক খাবার খাওয়ানো, শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত রোদ লাগানো হলে এ রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। সরকারি পর্যায়ে চিকিত্সার ব্যবস্থা না থাকায় রিকেট আক্রান্ত শিশুদের প্রতিবন্ধী হয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক শাহ মনির হোসেন বলেন, জাতীয় পুষ্টি প্রকল্প সঠিকভাবে চললে ও রিকেটকে গুরুত্ব দিলে এই রোগটি হওয়ারই কথা ছিল না। ইউনিসেফের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের প্রধান বির্থে লোকাটিলি রছি রিকেট প্রতিরোধে অব্যাহতভাবে সহায়তার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের রিকেট সার্জারি চিকিত্সক ক্রেভেরি থাইরি বলেন, রিকেট অস্ত্রোপচার করে ভালো করা সম্ভব। তবে এটি অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল ও শিশুদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।

তথ্যসুত্রঃ প্রথম আলো
http://prothom-alo.com/detail/date/2010-01-27/news/37996

১০ মিনিটে মুখ


ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বসে বসে মানুষের মুখ আঁকেন পার্থ রায়। বাক্প্রতিবন্ধী এই মানুষটি অন্যের মুখচ্ছবি এঁকেই জীবন চালান। এস এম সুলতানের সাক্ষাত্ ছাত্র ছিলেন তিনি। তাঁর নড়াইলের আর্ট স্কুল ‘শিশু স্বর্গে’ বসেই ছবি আঁকা শিখেছেন পার্থ।
চারকোলের পেনসিল দিয়ে সাদা কাগজের মধ্যে ঘষাঘষ রেখা টেনে চলেন একমনে। দেখতে দেখতেই এক সময় বের হয়ে আসে সামনে বসা মানুষটার মুখ। লোকজন সবকিছু ফেলে ভিড় করে দেখে তাঁর এই কাজকর্ম। কাজ শেষে নগদ প্রাপ্তি হয় ভালোই। সেই সঙ্গে বেশ বাহবাও মেলে।
পার্থ রায় লিখে জানালেন, প্রতিটি সাদাকালো ছবির জন্য ২০০ টাকা রাখেন তিনি। আর রঙিন হলে ৪০০ টাকা। মেলায় বসলে সারা দিনে আট-দশজন পাওয়া যায়। বাণিজ্য মেলা শেষ হয়ে গেলে বইমেলা শুরু হবে, তখন তাঁকে দেখা যাবে ওখানেই। আর প্রত্যেক ঈদে তাঁকে পাওয়া যাবে শিশু পার্কের চৌহদ্দীতে।

রথ দেখা, সেই সঙ্গে কলা বেচা
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা নিয়ে কিছুটা বাড়তি উত্সাহ কাজ করে অনেকের মধ্যেই। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসেন মেলা দেখতে। ‘দূরত্ব যতই হোক, কাছে থাকুন’ এমন চিন্তা থেকে নরসিংদী থেকে মেলা দেখতে এসেছে দুটি পরিবার। পরিবার-পরিজন নিয়ে সারা দিন ঘোরাফেরা-কেনাকাটা আর হই-হুল্লোড় শেষে মেলা প্রাঙ্গণেই চাদর পেতে বসে পড়লেন তাঁরা। আর সঙ্গে করে আনা ব্যাগ থেকে বের হতে থাকে হরেক রকম খাবার। মেলায় আসা অন্য দর্শনার্থীরা খানিকটা কৌতূহলী হয়ে দেখতে থাকে ব্যাপারটা। লোকজনের এই কৌতূহল দেখে এক পরিবারের কর্তা খানিকটা আয়েশি ভঙ্গিতে বলেই ফেললেন, ‘ভাই, রথ দেখা আর কলা বেচা একই সঙ্গে সেরে ফেললাম।’

তথযসূত্রঃ প্রথম আলো, ১ জানুয়ারী, ২০১০।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-01-24/news/37174

বদলে যাওয়ার অভিযাত্রায় প্রতিবন্ধী স্কাউটরাও প্রত্যয়ী


‘আমরা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলি না। আমরা চাই অন্যরাও যেন যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে। আর এভাবেই আমরা সবাই বদলে যাব।’ অষ্টম জাতীয় স্কাউট জাম্বুরিতে অংশ নেওয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কাউট শিউলি আক্তার গোছানো বাক্যে কথাগুলো বলছিল।
লক্ষ্মণাবন্দ ভিলেজে অন্য স্কাউটদের সঙ্গে নিয়মিত কার্যক্রমে অংশ নেওয়া রাজশাহীর পঙ্গু শিশু নিকেতনের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. রুবেল বলে, ‘আমি চোখে দেখি না, তবু আমি থেমে যাব না। পড়াশোনা করে মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে যাব। স্কাউটিং থেকে সেই আত্মমর্যাদার দীক্ষা পেয়েছি। যা সবার জীবনে দরকার।’ কনকনে শীতের মধ্যেও হাসি ছিল তার মুখে। সে বন্ধুত্ব করতে এসেছে। তার অনেক বন্ধু দরকার।
গতকাল মঙ্গলবার ছিল অষ্টম জাতীয় স্কাউট জাম্বুরির ষষ্ঠ দিন। গজারি বন সারা দিনই ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। এতে বিন্দুমাত্র কমে যায়নি স্কাউটদের উদ্যম। নিয়মিত কার্যসূচিতে বনে অভিযাত্রা স্কাউটদের উত্সাহে যোগ করে নতুন মাত্রা।
অভিযাত্রা, সমাজ চেতনা, আমার লক্ষ্য, তাঁবু সজ্জার মতো প্রায় সব চ্যালেঞ্জেই অংশ নিচ্ছে প্রতিবন্ধী স্কাউটরা। তাদের উদ্যম আর আনন্দের সামনে সব বাধাই যেন তুচ্ছ। জাম্বুরিতে তারাও বদলে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে এসেছে। তবে এ ব্যাপারে সমাজের সবার সহযোগিতা চেয়েছে তারা। এবারের জাম্বুরিতে ১৩০ জন প্রতিবন্ধী স্কাউট অংশ নিচ্ছে।
সুইড বাংলাদেশের স্কাউট বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী প্রজ্ঞা পারমিতার শখ নৃত্য করা। নতুন কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব হলেই সে নেচে তাদের আনন্দ দিচ্ছিল। প্রজ্ঞা জানাল, এখানে আসার পর তার অনেক বন্ধু হয়েছে। সে সারা জীবন এসব বন্ধুকে কাছে পেতে চায়। একই প্রতিষ্ঠানের স্কাউট রাশিদা খাতুনও জানিয়েছে তার শখ নাচ করা। এখানে এসে তার কেবল নাচতেই ইচ্ছে করছে। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মোহসেনা আক্তার জানাল, এখানে এসে সে অনেক কাজ করতে শিখেছে। দেশের মঙ্গলের জন্য সে এখন থেকে কাজ করবে।
লক্ষ্মণাবন্দ ভিলেজে নিয়মিত কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল ওই ভিলেজের স্কাউটরা। মাঠে সারি বেঁধে বসেছিল তারা। এর মধ্যে ছিল রাজশাহীর পঙ্গু শিশু নিকেতনের সোহেল রানা। পোলিওর কারণে তার একটি পা ও একটি হাত অকেজো। তবু তার উদ্যম থেমে নেই। বার বার হাত উঁচিয়ে কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল। সোহেল রানা বলে, ‘আমি অনেক দূর যেতে চাই। অনেক বড় পৃথিবী দেখতে চাই। স্কাউটিং আমাকে সে পৃথিবী দেখাবে। আমি চাই, যারা সুস্থ স্বাভাবিক আছে, তারা যেন আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।’ সড়ক দুর্ঘটনায় আট বছর আগে শিশু বয়সে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয় হায়দার আলী। এখন সে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ছে। সে আত্মমর্যাদায় বলীয়ান হতে প্রত্যয়ী। এ ব্যাপারে সমাজের সবার সহযোগিতা চায় সে।
সুইড বাংলাদেশের স্কাউট বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিউলি আক্তার, রায়হান কবীর, নাজমুল ইসলাম, শাহীন, সারমিন লিপিরা এখানেই থেমে যেতে চায় না। ওরা স্পেশাল অলিম্পিকে অংশ নিয়ে দেশের জন্য সম্মান নিয়ে এসেছে। সারমিন ১০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক জিতেছে চীনে। আর শাহীন বিজয়ী ফুটবল দলে খেলেছে। ওরা চায় দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। কথার ফাঁকেই তারা জানাল, সরকার চাকরির আশ্বাস দিলেও তারা চাকরি পাচ্ছে না। সারমিন লিপি প্রথম আলোকে বলে, আমরা কাজ করতে পারব, আমরা চাই সরকার আমাদের চাকরির ব্যবস্থা করুক। আর এ ব্যাপারে সমাজের সব মানুষকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
সুইড বাংলাদেশের শিক্ষক হাসিনা হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমে আশঙ্কা ছিল ওরা পারবে না। আর এখন ওরা বাড়ি যেতে চাইছে না। ওদের সামাজিক করে তোলার জন্য এ ধরনের অনুষ্ঠান বেশ কার্যকর।
সকালে ‘সমাজ চেতনা’ কার্যক্রমে জাম্বুরি এলাকার দক্ষিণ মৌচাক, লোহাকৈর ও কামরাঙ্গাচালা এলাকায় স্কাউটরা মাটির রাস্তা সম্মিলিতভাবে মেরামত ও দুটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে। স্কাউটরা ওই এলাকার দরিদ্র পরিবারের বাড়ির আঙিনায় সবজি বাগান করে দেয়, গর্ভবতী মায়েদের চিকিত্সা পরামর্শ, বাড়ির গবাদি পশুর যত্ন ও চিকিত্সার নিয়ম, ওরস্যালাইন তৈরি করাসহ নানা বিষয়ে ধারণা দেয়।
সন্ধ্যায় জাম্বুরির ১৫টি সাব ক্যাম্পফায়ারে প্রধান অতিথি ছিলেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিহির কান্তি মজুমদার, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, জাতীয় ফাউন্ডেশনের ম্যানেজমেন্টের সভাপতি ফয়জুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ স্কাউটসের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল কাইয়ুম ঠাকুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রমুখ।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-01-25/news/36318

বেঁচে থাকাটাও যখন অমানবিক

আমার গ্রামের হতদরিদ্র আবদুল আলীম অনেক কষ্টে আমার বাসাটা খুঁজে যে ঘটনাটা জানালো, আমি লা জওয়াব ছিলাম অনেকক্ষন। তার তেরো বছরের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে কোথাও থেকে আসার পথে বাসের চাপায় তার স্ত্রীর তাৎক্ষনিক মৃত্যু হয় এবং ছেলেটা মারাত্মক আহত হয়। উরু থেকে নীচের অংশের হাড় গুড়িয়ে যায়।

মেডিক্যালে সপ্তাহ দুয়েক থাকার পর ওরা রিলিজ করে দেয়, গ্রামে গিয়ে দেখে ভেতরের হাড় মোটেও জোড়া লাগেনি। হাজার হাজার টাকা দিয়েও জোড়া লাগানো সম্ভব না আর। তার পক্ষে এক হাজার টাকা খরচ করাও সম্ভব না। ছেলেটা মুখে কথা বলতে পারে না, কেবল গোঁ গোঁ চিৎকার করে আর যাকে সামনে পায় আচড়ে খামচে রক্তাক্ত করে দেয়। এখন সে ব্যাথায় কাতরাচ্ছে, শীতে কোঁকাচ্ছে, বিছানায় পেশাব পায়খানা করে একাকার। তাকে দেখার মতো কেউ নেই। ভীষন দুরাবস্থা।

আবদুল আলীম নিজের আয়ে নিজে চলতে পারে না, আহত ছেলেটাকে কি করে সামলাবে? সে নিজেই যেখানে সামলাতে পারছে না, অন্য কেউ সহ্য করবে কেন। সুতরাং আবদুল আলীম আমার কাছে এসেছে ছেলেটাকে কোথাও দুর করা যায় কিনা সে ব্যবস্থা করতে। কোথাও কোন সংস্থা আছে কিনা সেরকম। সে বারবার আক্ষেপ করছিল দুর্ঘটনায় ছেলেটা যদি মারা যেত তাহলে তার এই কষ্টে পড়তে হতো না। সে আকুল হয়ে ছেলেটার মৃত্যু কামনা করছে যেন। কতটা অসহায় অবস্থায় পড়লে মানুষ এই কথা বলতে পারে।

আমি কোন সমাধান দিতে পারিনি। বলেছি খোঁজ নিয়ে জানাবো। এখনো পাইনি সেরকম কোন খোঁজ। কারন সেরকম কোন সংস্থার খবর আমার জানা নেই যারা এরকম মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধিদের আশ্রয় লালন পালন করে। কারো কি জানা আছে? জানা থাকলে একটা মেইল দিয়ে জানাবেন প্লীজ uniresources@gmail.com

কখনো কখনো বেঁচে থাকাটাও একটা অমানবিক, অবিচার!


লেখকঃ নীড় সন্ধানী, ২৩ জানুয়ারী, ২০১০।

http://hrrh69.amarblog.com/posts/97014

অবশেষে হচ্ছে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা নীতিমালা

প্রতিবন্ধী শিশুদের সাধারণ স্কুলে ভর্তির সরকারি নীতিমালা হচ্ছে। তিন বছর ধরে প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা উদ্যোগ চলছে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়াই। নীতিমালা না থাকায় প্রতিবন্ধী শিশুদের সাধারণ স্কুলে ভর্তির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। উপরন্তু প্রতিবন্ধীদের ভর্তি করতে গিয়ে স্কুলগুলোও পড়ছে নানা বিভ্রান্তিতে। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত প্রতিবন্ধী দিবসের অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছেন, প্রতিবন্ধীদের সাধারণ স্কুলে ভর্তি করতে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের সাধারণ স্কুলে লেখাপড়ার বিষয়ে এত দিনেও সরকারি নীতিমালা তৈরি হয়নি। তবে শিগগিরই এ নীতিমালা তৈরি করা হবে। তিনি জানান, নীতিমালা তৈরি করতে আজ শুক্রবার থেকে সারা দেশে শিশু ও সাক্ষরতা বিষয়ে পাঁচ দিনব্যাপী জরিপ পরিচালিত হবে। এ জরিপে প্রতিবন্ধী শিশুদের সংখ্যা এবং কে কোন ধরনের প্রতিবন্ধী তা চিহ্নিত করা হবে। জরিপে চিহ্নিত প্রতিবন্ধীদের মধ্যে যারা সাধারণ স্কুলে পড়তে সক্ষম, তাদের সাধারণ স্কুলেই ভর্তি করা হবে। আর গুরুতর প্রতিবন্ধীদের ভর্তি করা হবে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত বিশেষ স্কুলে।
দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বছর তিনেক ধরে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে 'একীভূত শিক্ষা' কর্মসূচির আওতায় গুরুতর প্রতিবন্ধী ছাড়া সাধারণ ও মাঝারি ধরনের প্রতিবন্ধী শিশুদের সাধারণ স্কুলে ভর্তি করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এত বছরেও এ জন্য সরকার কোনো নীতিমালা তৈরি করেনি। ফলে স্কুলগুলো প্রতিবন্ধীদের ভর্তির ক্ষেত্রে নানা বিভ্রান্তিতে পড়ছে। প্রতিবন্ধীদের সাধারণ স্কুলে ভর্তির ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। এ ছাড়া প্রতিবন্ধীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে স্কুলগুলোর কিছুটা অবকাঠামোগত পরিবর্তনও দরকার। এর জন্যও সরকারি নীতিমালা প্রয়োজন।
প্রতিবন্ধীদের স্বেচ্ছাসেবা দিয়ে থাকে বি-স্ক্যান (বাংলাদেশি সিস্টেমস চেঞ্জ অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক)। সংগঠনের সহকারী প্রশাসক সালমা মাহবুব তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারি নীতিমালার অভাবে বহু বছর ধরে প্রতিবন্ধীরা সাধারণ স্কুলে পড়তে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছে। সরকারি নীতিমালা থাকলে দৃষ্টি, চলৎ, বাক ও শ্রবণ_এই চার ধরনের মধ্যমমানের প্রতিবন্ধী শিশুরা কোন পদ্ধতিতে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই লেখাপড়া করতে পারবে এবং তাদের জন্য কী কী উপকরণের প্রয়োজন হতে পারে, তা স্পষ্ট হতো। প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েদের সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে স্কুলগুলোরও তৈরি হতো বাধ্যবাধকতা। কিন্তু এর অভাবে সর্বত্র বিপত্তি দেখা দিচ্ছে।
সালমা মাহবুব উদাহরণ দিয়ে বলেন, চলতি জানুয়ারিতেই চট্টগ্রামের রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন চলৎ প্রতিবন্ধী ছাত্রী সপ্তম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হয়। কিন্তু তার নতুন শ্রেণীকক্ষটি ছিল দোতলায়; ফলে সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় উঠে তার ক্লাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় সরকারি নীতিমালা না থাকায় তার পড়াশুনা নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। পরে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ উদ্যোগী হয়ে অষ্টম শ্রেণীর ক্লাসটি নিচতলায় নামিয়ে আনায় এ সমস্যার সমাধান হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাধারণ স্কুলে প্রতিবন্ধী শিশুদের লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টির জন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে 'সবার জন্য শিক্ষা' কর্মসূচির আওতায় ২০০৬ সালে সরকার 'একীভূত শিক্ষা' প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের আওতায় গত তিন বছরে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি, আধাসরকারি ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ১২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিকে (প্রধান শিক্ষক বা সহকারী প্রধান শিক্ষক) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের আরো ৩৭৯টি একই ধরনের স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধিকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিবন্ধীদের স্কুলে ভর্তির জন্য শিক্ষাঙ্গনের অবকাঠামোগত উন্নয়নে একেকটি স্কুলকে ১০ হাজার টাকা প্রাথমিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এই টাকায় স্কুলগুলো হুইল চেয়ার ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীর জন্য ঢালু পথ (র‌্যাম্প) নির্মাণ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য শ্রেণীকক্ষের পাঠ বারবার শোনার জন্য টেপ রেকর্ডার কেনা ইত্যাদি খাতে ব্যয় করবে।
প্রস্তাবিত জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০০৯ এবং প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন (সংশোধিত) ২০০৯-এর খসড়ায় গুরুতর প্রতিবন্ধী ছাড়া অন্য প্রতিবন্ধী শিশুদের সাধারণ স্কুলেই লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
১৯৯০ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শিক্ষা সম্মেলনে ২০০০ সালের মধ্যে সব শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার আহ্বান জানানো হয়। পরে ১৯৯৩ সালে দিল্লীর জনসংখ্যা এবং ২০০০ সালে সেনেগালের ডাকারে অনুষ্ঠিত শিক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার 'সবার জন্য শিক্ষা' কর্মসূচি গ্রহণ করে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে ২০০৬ সালে কন্যা, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী_প্রাথমিক শিক্ষাবঞ্চিত এই চার ধরনের শিশুকে 'একীভূত শিক্ষা' কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হয়। আর ২০১১ সালের মধ্যে পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়।
১৯৮৫ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ অনুযায়ী, দেশের প্রায় দেড় কোটি মানুষ নানাভাবে প্রতিবন্ধিতার শিকার; যা মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ। এরপর আর কোনো সরকারি-বেসরকারি জরিপ না হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বর্তমানে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

লেখকঃ বিপ্লব রহমান
http://www.kalerkantho.com/

BSA Motors launches electric scooter


New Delhi, 8 Jan: While luxury sedans, small cars and hybrid vehicles have hogged the limelight at the Auto Expo, it was also the platform for the launch of an electric scooter designed in India especially for disabled people.

BSA Motors, a recently formed division of the Chennai–based Tube Investments of India Ltd, promoted by the Murugappa Group, unveiled its four–wheel scooter, Roamer Able, on Thursday.

"After extensive market research, we saw that there is a burning need to come out with a scooter which would help the mobility of the physically challenged," said K.B. Srinivasan, vice–president, BSA Motors, which only makes electric scooters. "So long, people have been buying scooters from the market and modifying them, but those vehicles are not very safe."

The Roamer Able has thoughtful touches such as a holder for crutches and a rear break lock so that the scooter does not roll back on a slope. The rider can also engage reverse with a flick of a switch.

"We have been developing the technology for this vehicle since the last eight months along with a Japanese design consultancy firm, which has advised us on the design of the scooter," said Srinivasan.

The scooter is priced at Rs35,300 before taxes and other charges in Delhi, but the state government has extended BSA Motors a subsidy so it can sell the scooters at a 30% discount. The company is talking with other states as well for similar subsidies.

BSA Motors, formed in July 2008, is targeting a 20% share of the electric scooters market, currently pegged at Rs1.1 lakh, by the end of fiscal 2011. The company sells around 1,500 scooters a month and expects to end 2010–11 at around 15,000 units.

Hero Electric Ltd, a subsidiary of the Hero Group, is the largest firm in India's highly disorganized electric scooters market, which has around 80 firms importing containers of Chinese electric scooters and selling them locally. BSA Motors also faces competition from Electrotherm India Ltd, which sells its electric two–wheelers under the Yobykes brand.

There were the good old bicycles on display as well, although some had a Rs3 lakh price tag.

A range of cross–country, mountaineering and racing bicycles were introduced in India around six months back by BSA Motors, which has secured exclusive rights for marketing bicycle brands such as Ducati, Cannondale, Bianchi and Schwinn in the country.

Abhishek P. Sareen, manager, performance bikes division, BSA Motors, says the company sells around 100 of these imported bicycles every month. "Ninety per cent of the sales have come from bikes ranging between Rs20,000 and Rs50,000 and we are expecting to sell around 7,000 bicycles this fiscal," said Sareen.

আমার চলার পথ


২০০৪ সালে আমরা যখন মগবাজারে ভাড়া বাসায় থাকতাম তখন সিদ্ধেশ্বরীতে আমাদের এপার্টমেন্টের কাজ শুরু হয়। হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে গিয়ে আমাকে বেশ কিছু সমস্যায় পড়তে হতো, র‌্যাম্পের অভাবে সব জায়গায় যেতে না পারা, নিজে নিজে এক সিট থেকে অন্য সিটে, যেমন বিছানা থেকে চেয়ারে বা চেয়ার থেকে বিছানায় কারো সাহায্য ছাড়া উঠতে বা নামতে না পারা, বাথরুমের দরজা চাপা হওয়ার কারণে চেয়ারটি নিয়ে ঢুকতে না পারা ইত্যাদি। প্রতি মুহুর্তেই অনেক সাহায্য লাগতো আমার। আর সবসময় ভাবতাম ভাড়া বাসায় আমার যে প্রতিবন্ধকতাগুলো আছে তা নিজের বাড়ীতে থাকবে না। সেখানে আমি একাই টয়লেটে যেতে পারবো, কারও সাহায্য লাগবে না শুধু দরজাটি চওড়া হতে হবে আমার হুইলচেয়ারটি ঢুকবার জন্য, আর চৌকাঠটি হতে হবে নিচু, ব্যস। আরও সহজভাবে টয়লেটের সমস্যাটি সমাধান করা যায় দরজা চওড়া করার পাশাপাশি, যদি চৌকাঠ না দিয়ে ঘরের মেঝে থেকে বাথরুমের মেঝেটি এক থেকে দেড় ইঞ্চি নামিয়ে দেয়া যায়, যা ঐ সময় আমার জানা ছিল না। বাইরের দেশগুলোতে তাই করা হয়।
 

যাই হোক, এপার্টমেন্টে আমার রুমের সাথেই বারান্দা, যার ওপাশে বিশাল খেলার মাঠ, বারান্দাটাও বেশ বড়। ভেবেছিলাম যখন তখন চলে যাব বারান্দায়, ছেলেদের খেলা দেখবো কিংবা একটু মুক্ত হাওয়ার স্বাদ নেব অথবা মন খুব খারাপ হলে চলে যাব ছাদে খোলা বিশাল আকাশের নীচে বুক ভরে শ্বাস নিতে, কারণ সেখানে তো লিফট থাকবে। সেই সময়টায় আমার বাইরের জগতটা তখনও তৈরী হয়নি, তখন আমি ঘর থেকে বের হতাম খুবই কম, হয়তো বছরে দুইবার কি তিনবার। তাই এই সামান্য চাওয়াগুলো আমার কাছে অনেক বড় ছিল। দুঃখের বিষয় এর কোনটিই পূরণ হয় নি।


এপার্টমেন্টে আমার বাথরুমের চৌকাঠ ঘরের মেঝে থেকে ৩ ইঞ্চি উঁচু, দরজা যথেষ্ট চওড়া নয়, আমার ঘর থেকে বারান্দা যাবার পথে ৪ ইঞ্চি চৌকাঠ, যদিও স্লাডিং গ্লাস ডোর দেয়া, যার ট্র্যাকটি সাধারণত মাটির সাথে মেশানো বা ১ ইঞ্চির বেশী উঁচু হয় না। আমাদের ডেভেলপাররা কেন এমন করলেন তা তারাই ভাল জানেন, অনেক বলেও তাদের মত পালটানো গেল না। বারান্দার দেয়ালটিও তৈরী করা হলো মাটি থেকে আড়াই ফিট উচ্চতায়, তাই আমার ঘরে বসেও সেই খেলার মাঠটি দেখা যায় না, শুধু ছেলেদের হৈ চৈ এর আওয়াজ ভেসে আসে। আর ছাদ, সে তো সোনার হরিণ! আমাদের বিল্ডিংটি দশতলা আর লিফট শেষ গেছে নয়তলায় এসে। বাকি একতলা পায়ে হেঁটে উঠতে হয়, নিরাপত্তার কারণে। নিজ গৃহেও তাই নিজের চলাচলের স্বাধীনতা তৈরী হলো না, রয়ে গেলাম সেই বন্দী জীবনেই।
 

সব সময়ই ভাবতাম এই অসুবিধাগুলো কি করে দূর করতে পারি। বাসায় ইন্টানেট সংযোগ নেবার পর শুরু হলো নতুন জীবন, নিজে কে নিয়ে নতুন করে ভাবনা। এই দেশের কোন কিছু আমাদের জন্য তৈরী হবে না, হলেও কবে হবে তা জানা নেই, তাই যা আছে তার মাঝেই খুঁজে নিতে হবে নিজের পথ। তাই প্রথমে নিজের হুইলচেয়ারটি নতুন করে তৈরী করে নিলাম নিজের সুবিধা মত সিআরপি থেকে। নিজেদের অজ্ঞতাও অনেকটা আমাদের চলার পথকে কঠিন করে রাখে। যেমন আমি জানতাম না কি করে বাথরুমের দরজার সামনে একটি বহনযোগ্য র‌্যাম্প আমার এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে। যা কাঠ দিয়ে নিজেরাও তৈরী করে নেয়া যায়। বাইরের দেশে আমাদের চলাচলের বিভিন্ন সহায়ক ব্যবস্থা দেখে উদ্যোগী হলাম সেই রকম কিছু ব্যবস্থা নিজের জন্য তৈরী করে নিতে।

লিফটের সামনের সিঁড়ি দুটি দিয়ে শুরু আমার এই যাত্রা। খুব সামান্য একটু উদ্যোগ, কিছু মানুষকে এর উপকারিতা বুঝানো, অল্প কিছু টাকা.........একটি র‌্যাম্প। হাঁ, আমার এপার্টমেন্টে লিফট পর্যন্ত পৌঁছুতে বা লিফট থেকে বের হয়ে ঐ সিঁড়ি দু’টো পাড় হতে হয়। মাত্র দুটো করে সিঁড়ি, একটি সম্মুখে আর একটি পাশে। পাশেরটিতে এপার্টমেন্ট নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানটি খুব সহজেই একটি র‌্যাম্প সেখানে করে দিতে পারতেন কিন্তু করেন নি। এখন যেমন বলা হচ্ছে লিফট পর্যন্ত পৌছুতে র‌্যাম্প থাকতে হবে, ২০০৪ সালে তখন বিল্ডিং কোডে এটা ছিল কি না, জানা নেই, থাকলেও তারা সেটা মানতেন কি না সন্দেহ।
 

যাই হোক, সেখানে র‌্যাম্প তৈরীর উদ্যোগ নিলাম। সেই লক্ষ্যে আমার বিল্ডিং এর সবার মতামত নেবার জন্য এক এক করে তাদের ফ্ল্যাটে গেলাম, সাথে কিছু লিফলেট আমাদের সংগঠনের, জনকণ্ঠে ছাপা হওয়া আমার একটি লেখা ‘একজন জীবনযোদ্ধা’(একজন প্রতিবন্ধী মানুষের দৈনন্দিন জীবন চিত্র)র ফটোকপি, তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করলাম র‌্যাম্প কি জিনিস, এর উপকারিতা কি এবং এটা শুধু একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী জন্য নয়, একজন বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী মহিলা সবার জন্য এটা কাজে লাগবে। আমার ভাল লেগেছিল তাঁরা কেউ আমার কাজে ‘না’ বলেন নি, বরং উৎসাহ দিয়েছেন, একজন তো বললেন, একবার উনাকে হাসপাতাল থেকে হুইলচেয়ারে ফিরতে হয়েছিল, তখন কি যে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিলে হুইলচেয়ারসহ তাকে সিঁড়ি দিয়ে তুলতে, তা বলার নয়। সকলের সহায়তায় ১৫ই ডিসেম্বর আমার র‌্যাম্প তৈরী হলো। যাঁরা আমায় এই কাজে সহযোগীতা করেছেন আমি তাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।

এখন আমার বাথরুমের সামনেও একটি বহনযোগ্য র‌্যাম্প তৈরী হয়েছে মুক্ত চলাচলের উদ্দেশ্যে। তবে বারান্দায় যাওয়ার র‌্যাম্পটি আমি তৈরী করতে পারি নি ঘরে যথেষ্ট জায়গা না থাকায়। আমরা (যারা বাংলাদেশী সিস্টেমস চেঞ্জ এ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক, বি-স্ক্যান এর সেচ্ছ্বাসেবী সংগঠনের সাথে জড়িত) মনে করি সামান্য সচেতনতা, কিছু সম্মিলিত উদ্যোগ পালটে দিতে পারে প্রতিবন্ধী মানুষের পথের প্রতিবন্ধকতা।
লেখকঃ সালমা মাহবুব, আমারব্লগ ডটকম।
১৫ জানুয়ারী, ২০১০।

তাসনিনের শ্রেণীকক্ষ

তাসনিন সুলতানা। বছর দুয়েক ধরে সে দুরারোগ্য 'মাসকুলার ডিসট্রফি' রোগে আক্রান্ত। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও তার লেখাপড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। হুইলচেয়ারে করেই সে স্কুলে যায়, পাঠে অংশ নেয়। চট্টগ্রাম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাসনিন এবার সপ্তম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উঠলে তার মা-বাবা খুবই খুশি হন। একই সঙ্গে তাঁরা উদ্বিগ্ন হন মেয়ের লেখাপড়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও। কারণ, সুলতানার নতুন শ্রেণীকক্ষটি দোতলায়। সেখানে হুইল চেয়ার নিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। আবার নতুন শ্রেণীতে ভর্তি হওয়াও জরুরি।

সমস্যাটি নিয়ে তাসনিনের মা আফরোজা আখতার স্কুলের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে হতাশই হন। কারণ, একজন ছাত্রীর জন্য তো আর পুরো ক্লাস দ্বিতীয় তলা থেকে একতলায় আনা যায় না। আফরোজা আখতার একপর্যায়ে দেখা করেন প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ রওশন ইয়াসিনের কাছে। উপাধ্যক্ষ সব শুনে আশ্বাস দেন, 'আমাদের এ ছাত্রীটি এখানেই পড়বে। তাসনিনের শ্রেণীকক্ষটি নিচতলায়ই থাকবে!' এ খবরে খুশিতে কেঁদে ফেলে তাসনিন। আবেগে জড়িয়ে ধরে মাকে। তাহলে তার লেখাপড়া আর বন্ধ হচ্ছে না! আনন্দিত চট্টগ্রাম বন্দরের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বাবা আব্দুস সবুরও।

নতুন শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে গত সপ্তাহে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে তাসনিন। সহপাঠীকে ফিরে পেয়ে তার বন্ধুরাও খুশি। তাসনিন কালের কণ্ঠকে বলে, 'শিক্ষকদের সিদ্ধান্তে আমি খুবই খুশি। আমি আরো পড়ালেখা করে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চাই। সবাইকে দেখিয়ে দিতে চাই, সুযোগ পেলে আমরা প্রতিবন্ধীরাও সবকিছু পারি।' আফরোজা আখতার বলেন, 'আমি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। তার শ্রেণীকক্ষই নিচতলায় নামিয়ে আনেননি, শ্রেণীকক্ষের পাশের স্টোর রুমটি সংস্কার করে নতুন বাথরুমও বানিয়ে দিয়েছে। অন্য অভিভাবকরাও আমাকে যথেষ্ট মানসিক সাহস জুগিয়েছেন।'

তাসনিনের প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ রওশন ইয়াসিন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ছাত্রীটি খুবই সম্ভাবনাময়। তার লেখাপড়া যাতে অব্যাহত থাকে, সে জন্য আমরা সহায়তার চেষ্টা করেছি মাত্র। আমরা চাই, দেশের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও একইভাবে প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াবে।' প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করে থাকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বি-স্ক্যান (বাংলাদেশি সিস্টেমস চেঞ্জ এ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক)। বি-স্ক্যানের সহকারী প্রশাসক সালমা মাহবুব বলেন, প্রতিবন্ধী এক শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি যে উদাহরণ রেখেছে, তা অনন্য। তিনি জানান, বি-স্ক্যান স্কুল কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দেবে।


সুত্রঃ কালের কন্ঠ, বিপ্লব রহমান, ১৩ জানুয়ারী, ২০১০।

 তবুও বেলালের এগিয়ে চলা...

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান মো. বেলাল হোসেন। জন্মগতভাবেই তার দুটি হাত নেই। তার বাবা খলিল আকন অন্যের জমিতে কাজ করেন। মা হোসনেয়ারা বেগম গৃহিণী। এ ছাড়া রাহিমা বেগম নামে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এক বোন রয়েছে তার। একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে দুই ছেলেমেয়ের এ অবস্থায় হতাশাগ্রস্ত তার বাবা-মা।
খলিল আকন ও হোসনেয়ারা বেগম জানান, বেলালের জন্মের পর গ্রামের লোকজন নানা রকমের কুসংস্কার ছড়াতে থাকে। এলাকার মানুষ তখন তাদের তাচ্ছিল্য করত। এসব কারণে তাঁরা প্রথমদিকে বেলালকে লুকিয়ে রাখতেন। বেসরকারি সংস্থা এসএসডিপির সিবিআর কর্মী সমীর হালদারের পরামর্শে বেলালকে ২০০৭ সালে ভর্তি করা হয় উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উমেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রথমদিকে বিদ্যালয়ের অন্য ছাত্রছাত্রীরা বেলালকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। তাদের ভেতর ছিল এক অজানা ভয়—পাছে অন্যদের কোনো ক্ষতি হয় কি না? বিদ্যালয়ের সবার অসহনীয় মনোভাব আর অসহযোগিতার কারণে বেলালকে বিদ্যালয়ে যাওয়া এক পর্যায়ে বন্ধ করে দিতে হয়।
এমন অবস্থায় বেসরকারি সংস্থা এসএসডিপি তার পাশে এসে দাঁড়ায়। এসএসডিপি সিডিডি ডার্ক অ্যান্ড লাইট ব্লাইন্ড কেয়ার প্রকল্প ও এইচএসবিসি ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় আয়োজন করে প্রতিবন্ধী শিশুদের সমন্বিত শিক্ষা সুযোগ তৈরি করার স্কুল সেশন। বেলালের সহপাঠীদের নিয়ে ওই স্কুলে গঠন করা হয় প্রতিবন্ধী শিশুদের একটি দল। পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত আয়োজন করা হয় কাউন্সেলিং। আবার বেলাল বিদ্যালয়ে যেতে শুরু করে। নিয়মিত ক্লাস আর পড়াশোনায় তার আগ্রহ দেখে শিক্ষকেরাও আন্তরিক হন। প্রথম, দ্বিতীয় শ্রেণী উত্তীর্ণ হয়ে এখন সে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। ব্যতিক্রম হলো, তার দুটি হাত না থাকায় ডান পা দিয়ে তাকে লিখতে হয়। সে এখন সুন্দর করে লিখতে পারে। উমেদপুর বিদ্যালয়ে বেলাল এক পরিচিত মুখ, সবার বন্ধু। মুখে স্পষ্ট কথা, ‘মুই আগে পড়তে পারলেও লেখতে পারতাম না। এ্যাহন লেখতেও পারি।’ বাবা খলিল আকন বলেন, অর তো হাত নাই। পা দিয়াই তো সব করতে অইবে। ও যাতে সব কাম কাইজ করতে পারে হেই কৌশলও শেখতে চেষ্টা করছে।
উমেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ সুজা উদ্দিন বলেন, স্কুলের শিক্ষকেরা ওর শিখনে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে। যে কারণে শোনা, বলা, পড়া ও লেখা—এ চারটিতেই সে দক্ষতা অর্জন করেছে। তবে তার পরিবারের আর্থিক দৈন্যতা থাকায় খাওয়া-পড়ায় কষ্ট হয়। এসএসডিপির নির্বাহী পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিবন্ধীরাও অক্ষম নয়, বেলাল তাই প্রমাণ করেছে।

তথ্যসূত্রঃ http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-01-10/news/33621

আসুন বাড়িয়ে দেই সহযোগীতার স্পর্শ

শ্যামলা বরণের মিষ্টি এক মেয়ে ফাল্গুনী। তাকে সরাসরি দেখার সৌভাগ্য আমার আজ অবদি হয়নি। কিন্তু প্রথম যেদিন তার ছবিটি অনলাইনে দেখতে পেলাম, সেদিনের পর থেকে কিছুতেই মন থেকে তাড়াতে পারছি না কিশোরী এই মেয়েটির মুখছবি। শৈশবের দুরন্ত দিনগুলোতে যখন তার দস্যিপনায় মেতে উঠার কথা তখন ছোট্ট অবোধ শিশু ফাল্গুনী ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের লাইনে জড়িয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরেছে। মর্মান্তিক সে দুর্ঘটনায় একেবারে হুট করেই তার জীবন পথের মোড় ঘুরে যায়। ডাক্তাররা জানান তার দু'টি হাত এমনভাবে পুড়েছে শরীর থেকে কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তখন কতো হবে তার বয়স! বড় জোড় সাত কি আট ...এটুকুন বয়সেই তাকে প্রতিবন্ধীতার অভিশাপে জর্জরিত হতে হয়েছে । কিন্তু মনের জোড় সে এতটুকুও হারায়নি। বাহু দিয়ে লিখেই সব পরীক্ষায় বরাবর-ই প্রথম হয়েছে। ৫ম শ্রেণীতে টেলেন্টপুলে পেয়েছে বৃত্তিও ।




পটুয়াখালীর গলাচিপা শহরেই থাকে ফাল্গুনীরা। চার বোনের মাঝে সেঝ ফাল্গুনী। বড় দু'বোনের বিয়ে হয়ে গেছে আগেই। ফাল্গুনী ও তার ছোট বোন পটুয়াখালীর গলাচিপা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। মা ভারতী রাণী সাহা মিষ্টির প্যাকেট বানিয়ে বিক্রি করে আর বাবা জগদিশ চন্দ্র সাহা ছোটখাটো একটি দোকান চালায়। এই আয়েই তাদের সংসার ও দুই মেয়ের পড়ালেখার খরচ চলে। বর্তমানে ফাল্গুনী ১০ম শ্রেণীতে পড়ছে। জানে না, আদৌ কোনোদিন তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে কিনা তবুও নিরন্তর স্বপ্নের জ্বাল বুনে চলে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বি সি এস কর্মকর্তা হবার।
এ তো গেলো একজন ফাল্গুণীর গল্প। একই এলাকার হারুন অর রশীদের কাহিনী আরো করুণ। তার তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলেই বাক প্রতিবন্ধি। বড় ছেলে শামীমুর রহমান শাহিন প্রতিবন্ধি বিদ্যালয় লেখাপড়া না করেও এ বছর গলাচিপা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.১৪ পেয়েছে। এখন সে গলাচিপা ডিগ্রি কলেজে পড়ছে। আর ছোট ছেলে নিয়াজ উদ্দিন বাপ্পি গলাচিপা আইডিয়াল স্কুলের ২য় শ্রেনীর ছাত্র। পিতা হারুন অর রশিদ জানান, গলাচিপা শহরে তার ধান বানা ও চাল গুঁড়া করার মেশিন আছে। এ মেশিন চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে তার সংসার।



কিছুদিন আগেই পটুয়াখালীর একজন সাংবাদিক হানজালা শিহাবের সাথে আমাদের পরিচয় হয়। তার কাছেই এই দুই পরিবারের করুণ কাহিনী শুনতে পাই। তিনি জানালেন, মানবজমিন পত্রিকায় এ বিষয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদনও লিখেছিলেন বেশ কিছুদিন আগে। তখন থেকেই ভাবছিলাম আমরা ফাল্গুনি, শাহিন এবং বাপ্পির পড়ালেখার খরচ দিয়ে যদি কোনভাবে সহযোগীতা করা যেতো এই হতদরিদ্র দুটি পরিবারকে ! সিদ্ধান্ত নেই গতবার যেমন করে রিমা ও রিম্পাকে সাহায্য করা হয়েছিলো বি-স্ক্যান থেকে, ঠিক সেভাবেই এবারো ইনশাল্লাহ সকলের সহযোগীতার মাধ্যমে সেটি সম্ভব হবে। খুব বেশি নয় অল্প অল্প করেই যদি আমরা যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি, বাড়িয়ে দেই সহযোগীতার হাত এ দুটি পরিবারের প্রতি, তাহলে আশা করি পড়ালেখা শেষ করে এদের স্বনির্ভর হয়ে উঠার পথে আর কোন বাঁধাই থাকবে না।


লেখক- সাবরিনা সুলতানা, প্রথম আলোব্লগ, ৩১ আগস্ট ২০১০,

সচেতন হই, সচেতন করি :: প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার অধিকার পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করি

হাতের পাঁচটি আঙুল সমান নয় মানুষও সমান যোগ্যতা নিয়ে জন্মায় না মানুষের মেধা ও বুদ্ধিও সমান থাকে না আবার অনেকে পাঁচটি আঙুল নিয়েও জন্ম গ্রহণ করতে পারে না সৃষ্টি কর্তা কাউকে পূর্ণতা দিয়ে পাঠিয়েছেন, আবার কাউকে অপূর্ণ করে পাঠিয়েছেন হয়তো তিনি চেয়েছেন, পূর্ণ মানুষটি অপূর্ণ মানুষের পাশে দাঁড়ায় কিনা তবে, করুণা করে নয়

আমরা যারা সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক পূর্ণতা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করতে পেরেছি এবং আজ অবধি সু্স্থ্য-সবল শরীর ও মন নিয়ে জীবন-যাপন করে চলেছি, তারা যেন মনে রাখি, এটা অবশ্যই সৃষ্টি কর্তার আবদানে
তিনি আমাদের পূর্ণ করে রেখেছেন অপূর্ণতাকে পূরণ করতে নিজের শরীর আর মনের দিকে তাকিয়ে যেন আমরা অহংকার বোধ না করি আমার আশে-পাশে আমি যে সব অপূর্ণতা দেখবো, আমার উচিৎ আমার সাধ্য মত সে গুলোতে পূর্ণতা আনা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে যারা জন্ম গ্রহণ করেন বা পরবর্তিতে যে কোন কারণে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে প্রতিবন্ধকতার সাথে যুক্ত হয়ে পরে, তাদেরকে আমরা শুধু মাত্র নাম বিশেষণে "প্রতিবন্ধী" বলে চিনি কিন্তু, এটি তাদের পরিচয় নয় এটা তাদের "অপূর্ণতার" একটি রূপ মাত্র কিন্তু, তারা তাদের এই অপূর্ণতা অনেক অংশে নিজেরাই পূরণ করে চলতে পারে আবার অনেকে হয়তো একা একা পারে না আমাদের উচিৎ, তাদের পূর্ণ ভাবে চলতে এবং চলার জন্য পথ সুগম করে দেয়া কেউ যদি তাদের সাহায্য করতে না পারি, তবুও যেন তাদের পথ চলতে কোন রূপ বাঁধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করি।

শিক্ষা যে কারোর জন্য অমূল্য সম্পদ
এই সম্পদ থাকলে কেউ অপূর্ণ থাকে না শারীরিক কিংবা মানসিক অপূর্ণতা গুলোও এই সম্পদের যৌলুসে উজ্জ্বল হয়ে যায় তাই, প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার অধিকারটি নিশ্চিত করতে দেয়া এবং তাদের শিক্ষা গ্রহণের পূর্ণ সুযোগ প্রদান করা আমাদের যার যার নিজ নিজ অবস্থান থেকে করা মানবিক এবং সামাজিক দায় বন্ধতা থেকে চরম দায়িত্ব রয়েছে তাই আসুন- আমরা আমাদের সাধ্য মতো চেষ্টা করি আমাদের সমাজের সব অপূর্ণতাকে ঘুঁচিয়ে এগিয়ে যাই এক সাথে

এরই লক্ষ্যে বাংলাদেশি সিস্টেমস চেইঞ্জ অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক (বি-স্ক্যান) একটি সচেতনামূলক লিফলেট ছাড়তে যাচ্ছে
তাই, আপনারাও এর জন্য কাজ করতে পারেন লিফলেটটি আপনি এবং আপনার পরিচিত জনদের দিতে পারেন নিজে সচেতন হলেন এবং অন্যদেরও সচেতন করলেন অতি শীঘ্রই এই লিফলেট ছাপা আকারে দেশে সব বড় শহরে বিলি করা হবে সবাই যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে সারা দেশে এটি ছড়িয়ে অল্প করে হলেও মানুষকে সচেতন করা যেতে পারে

লিফলেট-টির লেখা গুলো নিচে দেয়া হলো:
প্রতিবন্ধীদের জন্য সম-শিক্ষা অধিকার চাই


প্রতিটি জীবনই মূল্যবান এবং তা প্রস্ফুটিত হওয়ার দাবি রাখে। কোন শিশু যখন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্ম নেয়, একটি সাধারণ শিশুর তুলনায় তার জীবনের মুল্য এতোটুকু কমে যায় না। তারা শুধুমাত্র তাদের কাজগুলো একটু ভিন্নভাবে করতে সক্ষম এবং তাদের খানিকটা আলাদা যত্নের প্রয়োজন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যপারে গুরুত্ত্ব আরোপ করে প্রতিবন্ধী শিশুদের স্কুলে ভর্তি ব্যপারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো উদ্যোগী হতে আহবান জানিয়েছেন।

স্বল্প থেকে মাঝারি মাত্রার প্রতিবন্ধী শিশুরা, ( যেমন: হুইলচেয়ার, ক্র্যাচ, ছড়ি ইত্যাদি ব্যবহারকারী চল এবং দৃষ্টি, বাক্ ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী) সাধারণ শিশুর সাথে একই স্কুলে পড়াশোনা করতে পারে। তাদের জন্য যে ব্যবস্থাগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় আনতে পারেন:

* প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার জন্য সহায়ক যে কোন ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্ত্ব বাড়ানো।
* প্রতিটি স্কুলে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী টয়লেট এবং সিঁড়িতে র‌্যাম্পের ব্যবস্থা করা।
*দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শ্রুতি লেখক, শ্রেণী শিক্ষকের পাঠ দান বাড়িতে বসে শোনার জন্য টেপ রেকর্ডারের ব্যবস্থা এবং বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ইশারা ভাষায় অনুবাদকের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
* দোতলা বা তার বেশি উঁচু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে লিফট না থাকলে দুজন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সাহায্যকারী নির্ধারণ করা; যারা শিক্ষার্থীকে হুইলচেয়ারসহ সহজেই সিঁড়ি দিয়ে উঠাতে-নামাতে সহায়তা করবেন। আর এ ব্যবস্থা না করা গেলে চল প্রতিবন্ধীদের জন্য শ্রেণীকক্ষটি নীচ তলায় নামিয়ে আনার ব্যবস্থা করা যায় (সম্প্রতি চট্টগ্রাম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ও কলেজ একজন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর জন্য এমনটি করেছে)।
* প্রতিবন্ধী শিশুদের যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হেয় প্রতিপন্ন করা না হয়, সেদিকে শিক্ষকেরা বিশেষ নজর দিতে সদয় হবেন। ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষভাবে বোঝানো যেতে পারে, প্রতিবন্ধী সহপাঠিটি তাদেরই ভাইবোন।
* মডেল স্কুল-কলেজসমূহে প্রতিবন্ধীদের ভর্তি করাসহ তাদের পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা পেতে কর্তৃপক্ষ বিশেষ সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করতে পারেন।
* স্কুল-কলেজগুলোতে নিয়মিত অভিভাবকদের জন্য সভা ডেকে প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করে জনসচেতনতা বাড়ানো যায়। এতে প্রতিবন্ধী শিশুদের স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য উসাহ বৃদ্ধি পাবে; আর সুযোগ পেলে প্রতিবন্ধীরাও এ দেশের যোগ্য নাগরিক হিসাবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে।
* প্রতিবন্ধীদের জন্য আরো যুগপোযুগি সরঞ্জাম সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা যেতে পারে।

সৌজন্যেঃ বাংলাদেশী সিস্টেমস চেইঞ্জ অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক (বি-স্ক্যান)
www.b-scan.org
Email: info@b-scan.org


লেখক: অরণ্য আনাম 

১ এপ্রিল ২০১০।

আলোহীন চোখে সাফল্যের ঝিলিক


পৃথিবীর আলো দেখার সৌভাগ্য তাদের হয়নি। মায়ের ভাষার বর্ণমালা বা ইংরেজি অক্ষর কিছুই চোখে দেখেনি তারা। জন্ম থেকেই তারা তিনজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।। তিনবেলা দুমুঠো ভাতও ঠিকমতো খেতে পায়নি তারা। সাফল্যের পথে আলোহীন চোখ বা দারিদ্র্য কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলে তিনটি এবার শিশুদের এসএসসি খ্যাত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে।

জয়নাল, জাকারিয়া ও মফিদুল সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনটে সমন্বিত অন্ধশিক্ষা সম্প্রসারণ কার্যক্রমের রিসোর্স সেন্টারে থাকে। পাশাপাশি তারা পুনট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে পড়া শোনে। আর রিসোর্স সেন্টারে গিয়ে ব্রেইল পদ্ধতিতে একধরনের মুদ্রণপ্রণালী, যা স্পর্শ করেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা পড়তে পারে।

মফিদুলের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তেলীহাটা গ্রামে। শৈশবেই বাবা কলিম উদ্দিনকে হারায় সে। চার ছেলেমেয়েকে মানুষ করার দায়িত্ব এসে পড়ে মা মাজেদা বিবির কাঁধে। মাজেদা বিবি কখনো ভিক্ষা করে, কখনো অন্যের বাড়ি থেকে চেয়েচিন্তে সংসার চালিয়েছেন। কিন্তু ভিক্ষার পয়সায় পাঁচজনের সংসার চলত না। মফিদুলকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশুসদনে রাখার সিদ্ধান্ত নেন মাজেদা। পরে প্রতিবেশী এক শিক্ষকের পরামর্শে শিশুসদনের বদলে জয়পুরহাটের রিসোর্স সেন্টারে ভর্তি করে দেন ছেলেকে।

মাজেদা বিবি বলেন, ‘পরিবারে অন্ধ ছেলে থাকাটা কত কষ্টের, তা যে পরিবারে আছে, সেই পরিবারের মা-বাবাই ভালো বুঝবেন। আর সেটা যদি হয় ভিখারির পরিবার, তাহলে তো কষ্টের শেষ নাই।’

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জয়নাল আবেদীনের বাড়ি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ঘাটমাগুড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামে। পাঁচ ছেলেমেয়ে রেখে বাবা আজিজার রহমান মারা গেছেন অনেক আগে। জয়নাল বড় হয়েছে মা জহুরা বিবির কাছে। জহুরা বিবি বিধবা-ভাতার টাকায় ছেলেমেয়েদের লালন-পালন করছেন।

জহুরা বিবি বলেন, ‘গরিব হওয়ার কারণে সুস্থ হওয়া সত্ত্বেও অন্য ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করাতে পারিনি। অথচ অন্ধ স্কুলে ফ্রি থাকা-খাওয়া ও পড়ালেখার খরচ দেওয়ায় জয়নালকে পড়ালেখা করাতে পারছি। ডাক্তার না হোক ওকে মাস্টার বানানোর ইচ্ছা আছে আমার।’ ফলাফলে উচ্ছ্বসিত জয়নাল বলে, ‘চোখের আলোয় যদি দেখতে পারতাম! তাহলে এই খুশি আর সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারতাম।’

দৃষ্টিহীন অপর মেধাবী জাকারিয়া শেখের বাড়ি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার জয়লাজুয়ান গ্রামে। তারা চার ভাই। বাবা শেখ মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ভূমিহীন দিনমজুর। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। আবু বক্কর বলেন, ‘জাকারিয়া ভালো ফল করেছে, এতে খুব খুশি হয়েছি। আরও খুশি হব যদি সে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে।’

রিসোর্স সেন্টারের শিক্ষক জেল হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী হলেও তারা অদম্য, জীবনে একটা কিছু হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তারা এগিয়ে চলেছে। তারা শুধু পড়ালেখায় নয়, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলাতেও পারদর্শী। মফিদুল আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে কোরআন তেলাওয়াত করে জেলা পর্যায়ে প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে।
পুনট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখলেছার রহমান বলেন, দৃষ্টি নেই, অর্থ নেই, পড়ালেখা করার মতো সামর্থ্যও নেই তাদের। কিন্তু সব বাধা পেরিয়ে ওই তিন অদম্য মেধাবী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে। কালাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হান্নান, দৃষ্টিহীন হয়েও তারা অসাধ্যকে সাধন করেছে। তাদের এ প্রশংসনীয় ফলাফল অন্যদেরও প্রেরণা জোগাবে।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো
http://prothom-alo.com/detail/date/2010-01-03/news/32285



IBM says Disability No Barrier to career in Tech

Dec 17: IBM has held an open day at its UK research lab to show young people that having disabilities shouldn't be a barrier to a future in the tech industry.

Earlier this month, the tech giant hosted an event at its Hursley Lab, in Hampshire, for fourteen 16 to 22 year olds with a wide range of disabilities. The young people met with a group of IBM employees, also with disabilities, in an attempt to show that a career in technology is open to everyone.

"Recruiting the next generation of talent is top of mind for many UK companies" said Jan Gower, executive sponsor, People with Disabilities Council, IBM UK. "At IBM, being inclusive is part of our DNA and we are passionate about ensuring our workforce reflects the market we serve. We are committed to being an employer of choice and to recruiting based on the best people, regardless of age, gender, ethnic background, sexual orientation, gender expression or disability".

But despite its apparent commitment to being inclusive, IBM has run foul of anti–disability discrimination rules in the past. In 2000, IBM and a technology partner faced a damages claim for failing to make a website they developed for the Sydney Olympic and Paralympic games accessible to disabled users. In 2006, a US federal appeals court ruled in favor of IBM in an age discrimination suit over a change to pension plans.

The Hursley event – organised in cooperation with Treloar's, a college in Alton for young people with physical disabilities, and disability work charity Enham – saw the young people meet with IBM staff including Ben Fletcher, a master inventor and a RADAR award winner 2008, who has Ushers syndrome.

"The objective of the day was to offer young people with disabilities the chance to meet IBM employees with disabilities", said Jeremy Knox, Treloar College tutor. "It was a truly inspiring day, in which our young learners were exposed to the latest cutting–edge technologies in an environment that valued the diversity and potential creativity of disabled employees."

Also present was software engineer and an international basketball player Emlyn Whittick who is also a wheelchair user, and Bob Williams who IBM describes as having "a client relationship role" and is registered blind.

"I was impressed by the assistive technology that IBM provided to it's disabled employees, it really made it easier for them to do their jobs, despite their disabilities", stated James Hinks, one of the students who attended the day from Treloar College.

The event was part of IBM's On Demand Community Challenges where IBM employees volunteer their time for deserving causes.

Reblog this post [with Zemanta]

সাতক্ষীরায় প্রতিবন্ধীদের জন্য ইতালীয় দম্পতির মমতার জাল


রাজধানীর কোনো এক ডাস্টবিনের পাশে পড়ে ছিল এক নবজাতক। গর্ভধারিণী মা তাকে ফেলে গেলেও ভাগ্যহত প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য বিপুলা পৃথিবী কোল পেতে দিল। ভিনদেশি এক নারী ডাস্টবিনের পাশ থেকে কুড়িয়ে নিলেন তাকে। তারপর সাভারের সিআরপিতে ঠাঁই হয় তার। সেখান থেকে তাকে সাতক্ষীরায় নিয়ে এসে মায়াডোরে বাঁধলেন ইতালীয় দম্পতি এনসো আর লাওরা। কবি যেমন বলেন, 'সেই ছেলে আজ কেমন বড়টি!' কুড়িয়ে পাওয়া সেই শিশু এখন ২৪ বছরের নির্ঝর। অপত্যস্নেহের ঝরনাধারায় স্থায়ী আশ্রয় পেয়েছে সে। নির্ঝর জানে, এনসো আর লাওরাই তার বাবা-মা।

একা নির্ঝর নয়, তার মতো অসংখ্য অসহায় আর প্রতিবন্ধী শিশুর মা-বাবা এখন এনসো দম্পতি। আশ্রিত এসব শিশু পাচ্ছে মমতা আর ভালোবাসা। সমাজের উপেক্ষিত এই প্রতিবন্ধীদের আশ্রয়, চিকিৎসা আর পুনর্বাসনের জন্য সাভার সিআরপির আদলে সাতক্ষীরা শহরের উপকণ্ঠে গোপীনাথপুর গ্রামে এই দুই ভিনদেশি গড়ে তুলেছেন রিশিল্পি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট। অসহায় মানুষের সেবা করতে গিয়ে দু'জন জড়িয়ে পড়েছেন এদেশের মায়ায়। নিবিড়ভাবে মিশে গেছেন এদেশের মাটি আর মানুষের সঙ্গে। এ মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে কোনোদিন তারা আর ফিরে যাবেন না ইতালিতে। '...তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও আমি এই বাংলার পাড়ে রয়ে যাবো'_ এখন এনসো দম্পতির শেষ চাওয়া এটাই। মৃত্যুর পর এখানেই সমাধিস্থ হতে চান বলে রিশিল্পির অভ্যন্তরে সমাধির জন্য জায়গাও ঠিক করে রেখেছেন। তারা কথাও বলেন শুদ্ধ বাংলায়। সাতক্ষীরার মানুষ তাদের এনসো-লাওরা বলে চেনে। তাদের একমাত্র পুত্রসন্তান আন্দ্রিয়া ফালকোনে ঢাকায় পড়াশোনা করেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরপরই ভিনসেনজো ফালকোনে ওরফে এনসো স্ত্রী লাওরা মেলানোকে সঙ্গে নিয়ে সুদূর ইতালি থেকে চলে আসেন সাতক্ষীরা শহরে। সমাজের হৃতদরিদ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে করতে এক সময় এদেশের মানুষ আর প্রকৃতির মায়ায় জড়িয়ে পড়েন। এক সময় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন সাতক্ষীরায়। শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের পাশে গোপীনাথপুর গ্রামে রিশিল্পি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট এখন স্নেহবঞ্চিত প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য বিছিয়ে রেখেছে নিশ্চিত আশ্রয়ের ছায়া।


বুধবার দুপুরে রিশিল্পি গেটে পা রাখতেই হুইল চেয়ারে বসা এক প্রতিবন্ধী যুবকের ওপর চোখ পড়ল। সেই হুইল চেয়ারটি ঠেলছেন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার স্বয়ং ভিনসেনজো ফালকোনে এনসো। 'নাম কী?'_ যুবকের কাছে জানতে চাই। শিশুর মতো আধো আধো বোলে হুইল চেয়ারে বসা শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী যুবকের উত্তর : 'নির্ঝর। বাড়ি এখানে। বাবার নাম এনসো। মায়ের নাম লাওরা।' নির্ঝর তাকে পিতা বলে পরিচয় দিচ্ছে দেখে আনন্দের ঝিলিক খেলে গেল এনসোর মুখে। গর্বে। বুকটা ভরে গেছে তার। গলা জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত এনসো তার কুড়িয়ে পাওয়া ছেলেকে আদর বোলালেন। এ সময় এগিয়ে এলেন নার্স দিপালি মণ্ডল। নির্ঝরের জীবনের মর্মন্তুদ কাহিনী জানা গেল তার মুখে। ২৪ বছর আগে ঢাকা শহরে এক ডাস্টবিনের পাশে পড়ে ছিল নবজাতক নির্ঝর। পাশেই ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন এক মার্কিন নারী। এ সময় শিশুর কান্না কানে গেল তার। এগিয়ে গিয়ে দেখলেন ছোট্ট শিশুকে কেউ ফেলে গেছে ডাস্টবিনে। সঙ্গে সঙ্গে কোলে তুলে নিলেন ওকে। ওই মার্কিন নারীর সঙ্গে সাভার সিআরপিতে পরিচয় হয় এনসোর। তারই অনুরোধে ১৯৯৬ সালে এনসো নির্ঝরকে নিয়ে আসেন রিশিল্পি প্রতিবন্ধী শেল্টার হোমে।


নির্ঝরকে বিশেষ পদ্ধতিতে লেখাপড়া শেখানো হয়। নিয়মিত দেওয়া হয় থেরাপি। নির্ঝরের মতো ৮৬ জন প্রতিবন্ধী শিশুকে বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে লেখাপড়া শেখানো হয়। একই শেল্টার হোমে আশ্রিত আবিরের বয়স ১৩। বাড়ি খুলনা শহরের টুটপাড়ায়। সাধারণ শাখায় সে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে সে। যথেষ্ট চটপটে। সে জানায়, তার বাবা নেই, মা আছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে তার মা তাকে এখানে রেখে গেছে। ৯ বছর ধরে এনসো আর লাওরার স্নেহে বড় হচ্ছে সে। ১২ বছরের আরেক অভাগা শিশু সোহান। প্রতিবন্ধী সন্তান প্রসব করায় সোহানের মায়ের সঙ্গে তার বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। মায়ের সঙ্গে সোহান শহরতলির বিনেরপোতা গ্রামে নানীর বাড়িতে চলে আসে। কিন্তু বিধিবাম। প্রতিবন্ধী সোহানকে ফেলে রেখে তার মা অন্য এক পুরুষের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নানীর বাড়ির আশ্রয়টুকুও এক সময় টলে যেতে থাকে। এমনই সময় তার ঠাঁই হয় রিশিল্পি শেল্টার হোমে।
শহরের ইটাগাছার জাহিদের মা ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালান। প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগানোর সাধ্য তার নেই। জাহিদেরও আশ্রয় মিলেছে এখানে। আরও এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ৮ বছরের রানা। সে কথা বলতে পারে না। কমিউনিকেশন বোর্ডের মাধ্যমে তাকে কথা বলানো হয়। এই প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি লেখাপড়া শেখানোর দায়িত্বে আছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাদেরই একজন প্রভা মণ্ডল। তিনি নিজেও একজন প্রতিবন্ধী। স্বামী শ্যামল মণ্ডলও ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী। দিন কয়েক আগে প্রভা মণ্ডল বিধবা হয়েছেন। কিন্তু এই প্রতিবন্ধী শিশুদের সানি্নধ্যে তিনি স্বামী শোক কাটিয়ে উঠেছেন।


রিশিল্পি ছাড়াও একই প্রতিষ্ঠান তালা, কলারোয়া, খুলনা ও আশাশুনিতে প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা ও শিক্ষা নিশ্চিত করেছে। ফিজিওথেরাপিস্ট শংকর কুমার ঢালী জানালেন, প্রতিবন্ধীদের ম্যানুয়ালি ও ইলেক্ট্রোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর রয়েছে তাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে এই প্রতিবন্ধীদের জীবিকা অর্জনে সক্ষম ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলছেন এনসো। প্রতিবন্ধী শিশু সাথীকে দেখিয়ে নার্স পূর্ণিমা বললেন, তার নিজের কোনো একাডেমিক শিক্ষা না থাকলেও বিশেষ প্রশিক্ষণের সুবাদে তিনি এই প্রতিবন্ধী শিশুদের সেবা করতে পারছেন। দিপালি বললেন, সাথী যেদিন কথা বলতে ও হাঁটতে পারবে, সেদিনই তার শ্রম সার্থক হবে।


১৯৭২ সালে শহরের সুলতানপুর মিশনারি চার্র্চে এনসোর সঙ্গে পরিচয় হয় নির্মল দাসের। এনসোর সঙ্গে নির্মলের সম্পর্ক আজও অটুট। তিনি জানালেন, সাদা চামড়ার মানুষ এনসোকে দেখে তার কাছে অগণিত মানুষ প্রতিদিন ভিক্ষার জন্য ভিড় করত। এনসো তার সাধ্যমতো ভিক্ষা দিত। কিন্তু তার উপলব্ধি হলো, এভাবে ভিক্ষা দিয়ে তো মানুষকে বাঁচানো যায় না। তাই এসব হতদরিদ্র মানুষকে কারিগরি জ্ঞান ও হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ দিয়ে জীবিকার বিকল্প সন্ধান করে দিতে শুরু করলেন। ১৯৭৭ সালে গড়ে তুললেন রিশিল্পি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট। শেল্টার হোমে প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসার পর তাদের টেইলারিং, লেদার ও উড সেকশনে কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়। তাদের হাতে তৈরি পণ্য রফতানি করা হয় উন্নত বিশ্বে। প্রচারবিমুখ এনসো বলেন, 'অসহায় মানুষের সেবা করে তৃপ্তি পাই। জীবনের বাকি দিনগুলো ওদের নিয়েই কাটাতে চাই। স্ত্রী লাওরা কিছুটা অসুস্থ। তাই সে বিশ্রাম নিচ্ছে। মৃত্যুর পর এখানেই সমাহিত হতে চাই।' এদেশের মাটি আর মানুষের চোখের আলোয়, বুকের কাছাকাছি থাকার আতীব্র আকাঙ্ক্ষা তার মনকে হাওয়া দেয় নিয়ত। বুঝিবা এটাই তার দেশ, তার দ্বিতীয় জন্মভূমি! বুঝিবা তার মনেও ঘুরছে এই দুর্মর ইচ্ছা : 'তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও/আমি এই বাংলার পাড়ে রয়ে যাব।'
 

তথ্যসূত্রঃ রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, সাতক্ষীরা  দৈনিক সমকাল।
http://www.samakal.com.bd/details.php?news=14&action=main&menu_type=&option=single&news_id=37646&pub_no=206&type=

কিছু সচেতনতা সবার জন্য

কোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থতা জনিত কারণে যে কেউ যখন-তখন প্রতিবন্ধিতার স্বীকার হতে পারেন!

একজন প্রতিবন্ধী মানুষেরও রয়েছে শিক্ষা, চাকরি, চিকিৎসা, বাসস্থান, বিনোদনসহ সব ধরণের মৌলিক-মানবিক অধিকার। জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী অধিকার রক্ষা সনদ তৈরী হয়েছে। বাংলাদেশও ২০০৭ সালের ৩০ নভেম্বর এই সনদে সাক্ষর করেছে।

প্রতিবন্ধী মানুষেরা এই সমাজেরই একজন। তাদেরকে মূল জনস্রোত থেকে আলাদা করে দেবেন না। তাদেরও অধিকার রয়েছে এ দেশের শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার। দয়া বা করুণা নয়, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। ভেবে দেখুন, আজ আপনার ঘরেও একজন প্রতিবন্ধী মানুষ থাকতে পারতো।। কে বলতে পারে, কোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার কারণে যে কোনো সময় আপনি বা আপনার নিকট কোনো স্বজন যে তাদেরই একজন হবেন না?

তাই সময় থাকতে আসুন, আমরা দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে এসে দাঁড়াই। তাদের মৌলিক মানবিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার হই।

প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নিশ্চিত করলে তারা একাই সহজ-স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন। উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালেই আমরা এর প্রমাণ পাই। এমন কোন কাজ নেই যা তারা করছেন না। আমাদের দেশে উন্নত সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলে প্রতিবন্ধীদের জন্য জীবন যাপন অনেক সহজ হবে। কিন্তু তাই বলে বসে থাকলে চলবে না।

আমরা যা করতে পারি, তা হচ্ছে-- প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সাধ্যমত প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। আর আমাদের দেশের অনেক আইনও এ বিষয়টি সমর্থণ করে। এসব আইনি অধিকার বাস্তবায়িত হলে প্রতিবন্ধীদের আজকের এই পরনির্ভরশীল জীবন কাটাতে হয় না।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষা আইন ২০১০ তৈরীর জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের আশা, এই আইনটির যথাযথ বাস্তবায়ন।

বাংলাদেশের ’স্যোশাল অ্যাসিসটেন্স অ্যান্ড রিহ্যাবিলেটেশন্স ফর দা ফিজিক্যালি ভারনারেবল’ (এসএআরপিভি)-এর চীফ এক্সিকিউটিভ জনাব শহিদুল হকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশী ৩৩.৭%, তারপরই শারীরিক প্রতিবন্ধীদের অবস্থান ২৪.৪%। এছাড়া অন্যান্যদের মাঝে আছে কুষ্ঠ

অটিজেম বা বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য বিশেষ ধরণের স্কুলের প্রয়োজন হয়। এ দেশে অল্প কয়েকটি এ ধরণের বিশেষ স্কুল আছে। কিন্তু যারা শারীরিক প্রতিবন্ধী, তারাই রয়েছেন সবচেয়ে সমস্যা-সঙ্কুল অবস্থায়। কারণ তারা না পারছে প্রতিবন্ধীদের বিশেষ স্কুলে যেতে; আবার না পারছে সাধারণ স্কুলে পড়তে।।

কী করলে এ ধরণের মানুষগুলো ঘর থেকে বের হয়ে মিশতে পারবে সমাজে, আসুন, আমরা তাই দেখি:

*প্রথমেই যা প্রয়োজন, তা হল পরিবারের সহযোগিতা। অন্য স্বাভাবিক সন্তানটির মত প্রতিবন্ধী সন্তানটিরও রয়েছে শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন, ভালবাসাসহ সব ধরণের পারিবারিক অধিকার--এ কথা অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের বুঝতে হবে।

*আপনি অভিভাবক হলে, পরিবারের প্রত্যেক সন্তানকে শিক্ষা দিন, ওদের বন্ধু হতে। ওদের সাথে খারাপ ব্যবহার না করতে। তাদের ব্যাঙ্গ,কটুক্তি বা টিটকারি না করতে। কারণ এতে ওরা দুঃখ পায়। তাদের বোঝাতে হবে, প্রতিবন্ধীরাও তোমারই মতো মানুষ।

*বাড়ি তৈরী করার সময় একবার ভাবুন, আপনার একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে, আপনি তার জন্য কী ব্যবস্থা নিতেন? কারণ, কোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থ্যতা জনিত কারণে যে কেউ যখন-তখন প্রতিবন্ধী হয়ে যেতে পারেন! তাই বাড়ি তৈরির সময় একটু খেয়াল রাখুন, বাথরুমসহ এর ঘরগুলোর দরজা কী হুইলচেয়ার চলাচলের জন্য যথেষ্ট চওড়া? এ দিকগুলো খেয়াল রেখে ভাড়াটিয়ার জন্যও বাড়ি তৈরি করুন।

*সমস্ত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রতিবন্ধী মানুষের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ও সুলভে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। তাদের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক র‌্যাম্প, হুইলচেয়ারসহ অন্যান্য সহকারী সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা। প্রতিবন্ধীদের ব্যবহার উপযোগী বাথরুম বা টয়লেটের ব্যবস্থা করা।

*প্রতিটি স্কুলে র‌্যাম্প রাখুন যাতে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ সহজেই তার হুইলচেয়ারটি নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করতে পারে।প্রতিবন্ধীদের কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা চাই। তাই প্রতিটি বাস, ট্রেনসহ অন্যান্য পাবলিক যানবাহনে আসন সংরক্ষণ, শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ বিশেষ করে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী যাতে সে সব যান-বাহনে সহজেই উঠতে পারেন, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। একইভাবে অন্যান্য প্রতিবন্ধীর জন্যও তাদের উপযোগী ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।

*বাংলাদেশের কোনো বড় শপিং মল, বিপনী বিতান, এমন কী মার্কেট, সিনেমা হলসহ বিনোদন কেন্দ্রে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য র‌্যাম্পের ব্যবস্থা নেই। তাই সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

*দেশে রয়েছে নানা ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষ। তাদের জীবন-যাপন সহজ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সহকারী সরঞ্জাম প্রয়োজন হয়, যেমন সাদা ছড়ি, বিভিন্ন ধরণের হুইল চেয়ার, হিয়ারিং এইড, ভয়েস সিন্থেসাইজার, ব্রেইল পদ্ধতি, ব্রেইল ব্লক--ইত্যাদি প্রয়োজন। সুলভে এগুলোর সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

*প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কিছু বাথরুমের সরঞ্জামেরও প্রয়োজন হয়, যা এ দেশে বিরলই বলা যায়। তাদের জন্য পাবলিক টয়লেটগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সবশেষে, আমরা বলতে চাই, যে দিকগুলোর কথা তুলে ধরা হলো, এর কোনটিই খুব ব্যয়-বহুল নয়, বরং প্রয়োজন প্রতিবন্ধীদের চাহিদার দিকে নজর দেওয়া।

আপনার প্রতিটি সন্তানই আপনার প্রিয়। আমরা যারা প্রতিবন্ধী, তারাও এ দেশেরই সন্তান। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব আমাদের মৌলিক মানবিক দিকটিও নিশ্চিত করা, যাতে আমরা এ দেশের বোঝা হয়ে না থেকে, প্রত্যেকে এ দেশের একজন যোগ্য নাগরিক হতে পারি, দেশের সেবায় নিজেকে কাজে লাগাতে পারি। এই দায়িত্ব শুধু যাদের পরিবারে একজন প্রতিবন্ধী আছে তাদের নয়, আপনারও কারণ বাড়ীর বাইরে যাওয়াই তাদের জন্য খুবই দুঃসাধ্য কাজ।

লেখকঃ সালমা মাহবুব, ২ জানুয়ারী, ২০১০।

FACEBOOK FACEBOOK AMARBLOG

 
Design by Oronno Anam | Bloggerized by Salma Mahbub