দ্বিতীয় মহাসমাবেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা

অধিকার আদায়ে আমাদের যেন রাস্তায় নামতে না হয়

কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন অধিকার চান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। তাঁরা রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে অংশগ্রহণ ও অবদান রাখতে চান। আর তাঁদের প্রত্যাশা হলো সরকারই তাঁদের এসব সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে। এর ব্যতিক্রম হলে সরকারের জন্য তা মোটেই মঙ্গলজনক হবে না। সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে, ‘অধিকার আদায়ের জন্য যেন আমাদের রাস্তায় নামতে না হয়।’
গতকাল সোমবার নগরের পল্টন ময়দানে জাতীয় সমাবেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এসব দাবি তুলে ধরেন। সারা দেশ থেকে আসা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের বাদ দিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে সরকারকে বর্জনেরও হুমকি দেন তাঁরা।
দেশের ৯১টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত মোর্চা ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব ডিজঅ্যাবল্ড পিপল্স অর্গানাইজেশন (ন্যাডপো) ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী’ শীর্ষক এ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ন্যাডপোর সভাপতি আবদুস সাত্তার। তিনি বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় এ মহাসমাবেশের উদ্বোধন করেন। দিনব্যাপী সমাবেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার-বিষয়ক জাতিসংঘ সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, বাজেট বরাদ্দ করা, জাতীয় সংসদে কমপক্ষে ১৫টি আসন সংরক্ষণ, প্রতিবন্ধী-নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়াসহ সাত দফা ঘোষণাপত্র পড়ে শোনান আবদুস সাত্তার।
চাঁদপুর থেকে আসা হুইল চেয়ার ব্যবহারকারী প্রতিবন্ধী হোসেন মিন্টু বলেন, সরকার প্রতিবন্ধীদের জন্য যানবাহনে বিনা মূল্যে ও সংরক্ষিত আসনে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে। অথচ হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীরা তাতে উঠতেই পারছেন না।
হোসেন মিন্টু বলেন, ‘সরকারকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সার্বিক দিক বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিতে হবে। কেননা সরকার নিশ্চয় চায় না, দেশের দেড় কোটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দাবি আদায়ে রাস্তায় নামুক।’
ন্যাডপোর সমন্বয়কারী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিরীন আক্তার রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট পদ ও কাজ রাখা এবং জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন রাখার দাবি জানান।
পল্টন ময়দানে বিশাল প্যান্ডেলের নিচে বলতে গেলে কোনো জায়গাই ফাঁকা ছিল না। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবন্ধী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মিলনমেলায় পরিণত হয় পল্টন ময়দান। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বক্তব্য ও তাঁদের পরিবেশনায় গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পল্টন ময়দানের চেহারাই পাল্টে দেয়।
একের পর এক বাস এসে থামছিল ময়দানের সামনে। বাস থেকে হুইল চেয়ার নিয়ে নামতে একেকজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে রীতিমতো যুদ্ধ করতে দেখা যায়।
সমাবেশে আসা কারও একটিও চোখ নেই, কারও বা পা নেই, কেউ খর্বাকৃতির। এ ছাড়া আরও নানা কারণে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়া বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুদের দেখে মনে হচ্ছিল এঁরা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ নন, সমাজেরই বিশাল একটি অংশ।
বক্তারা জানান, দিন দিন যে হারে প্রতিবন্ধী মানুষ বাড়ছে, সেই তুলনায় তাঁদের অধিকার আদায়ে সমাজ বা রাষ্ট্র সচেতন হয়নি। ফলে সমাজের একটি বিচ্ছিন্ন ও অবহেলিত গোষ্ঠী হিসেবেই তাঁরা দিন অতিবাহিত করছেন।

৩০ মার্চ, ২০১০,প্রথম আলো।
http://prothom-alo.com/detail/date/2010-03-30/news/52595

0 মন্তব্য(সমূহ):

Post a Comment

 
Design by Oronno Anam | Bloggerized by Salma Mahbub